লালযাত্রায় ২৫শে মার্চ গণহত্যার স্মরণ

কালরাত্রি থেকে সমকাল,রক্তঋণের ইতিহাসে প্রতিবাদী শোভাযাত্রা ।

টুইট ডেস্ক: ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাত্রি,বাংলার ইতিহাসে এক ভয়াল অধ্যায়। সেই গণহত্যার স্মৃতি ধারণ করে প্রতিবছরের মতো এবারও সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রাচ্যনাট আয়োজন করেছে প্রতিবাদী শোভাযাত্রা ‘লালযাত্রা’।

তবে এবারের আয়োজন কেবল অতীত স্মরণেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং ১৯৭১ থেকে জুলাই ২০২৪ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে চলমান মানবিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটও এতে যুক্ত হয়েছে।

আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘লালযাত্রা’ মূলত শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং গণহত্যার বিরুদ্ধে বৈশ্বিক প্রতিবাদের প্রতীক।

২৫ মার্চের সেই কালরাত্রিতে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর হামলার স্মৃতি বুকে ধারণ করে নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস জানানোর এক ভিন্নধর্মী প্রয়াস এটি।

বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বর (টিএসসি) থেকে শুরু হয়ে শোভাযাত্রাটি ফুলার রোডের স্মৃতি চিরন্তন পর্যন্ত অগ্রসর হয়।

লাল পোশাকে সজ্জিত নাট্যকর্মী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রাটি রূপ নেয় এক প্রতিবাদী মানববন্ধনে।

আয়োজকরা জানান, ২০১১ সাল থেকে নিয়মিতভাবে এই কর্মসূচি পালন করে আসছে প্রাচ্যনাট। প্রতি বছরই এতে যুক্ত হয় নতুন প্রজন্ম, যারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও গণহত্যার নির্মমতা সম্পর্কে সচেতনতা অর্জন করে।

এবারের লালযাত্রায় আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। ফিলিস্তিনের গাজা, লেবানন, ইউক্রেন,রাশিয়া সংঘাত, সুদানসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সহিংসতা তুলে ধরে আয়োজকরা বলেন, “মানবতা আজও বিপন্ন।

১৯৭১-এর মতোই আজও নিরপরাধ মানুষের রক্ত ঝরছে এই বাস্তবতা আমাদের নতুন করে প্রতিবাদে নামতে বাধ্য করে।”

লাল রং এখানে দ্বৈত প্রতীক,একদিকে শহীদের রক্তের স্মারক, অন্যদিকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ভাষা। আয়োজকদের মতে, এই শোভাযাত্রা শুধু শোক নয়, বরং ন্যায়বিচারের দাবিতে এক সম্মিলিত আহ্বান।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘লালযাত্রা’ ধীরে ধীরে কেবল একটি সাংস্কৃতিক কর্মসূচি নয়, বরং গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায় এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণের একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।

নতুন প্রজন্মের সক্রিয় অংশগ্রহণই এ উদ্যোগকে টেকসই করে তুলছে।স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে এসেও ২৫ মার্চের সেই রক্তাক্ত স্মৃতি জাতির চেতনাকে নাড়া দেয়।

আর সেই স্মৃতিকে জীবন্ত রাখতে, প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের ভাষায় উচ্চারিত হয়।