বিশ্বকাপের আগে চোটে নড়বড়ে দুই পরাশক্তি

প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রক্ষণভাগে ধাক্কা, দুই দলে একাধিক পরিবর্তন
আসন্ন বিশ্বকাপকে সামনে রেখে প্রস্তুতির শেষ ধাপে রয়েছে ফুটবল বিশ্বের দুই পরাশক্তি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা।
ফিফার মার্চ আন্তর্জাতিক সূচিতে নির্ধারিত প্রীতি ম্যাচগুলোকে ঘিরে দলগত সমন্বয়, কৌশল এবং বিকল্প পরিকল্পনা যাচাইয়ের লক্ষ্য ছিল তাদের।
তবে ঠিক এই সময়েই চোটের হানায় দুই শিবিরে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা, যা প্রস্তুতিকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
সূচি অনুযায়ী, ২৬ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। এরপর ৩১ মার্চ অরল্যান্ডোতে তাদের প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়া।
এই দুই ম্যাচকে সামনে রেখে শক্তিশালী দল গড়ার পরিকল্পনা করলেও স্কোয়াড ঘোষণার পর বড় ধাক্কা খায় ব্রাজিল। রক্ষণভাগের ভরসা গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস চোটের কারণে দল থেকে ছিটকে গেছেন।
ব্রাজিল ফুটবল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইংলিশ লিগ কাপের ফাইনালে পাওয়া চোটের কারণে তার ডান হাঁটুতে জটিলতা দেখা দিয়েছে। চিকিৎসা পরীক্ষার পর নিশ্চিত করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বিরতিতে মাঠে নামার মতো ফিট নন তিনি।
ফলে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ দুটিতে তাকে পাওয়া যাবে না। উল্লেখযোগ্যভাবে, তার পরিবর্তে নতুন কাউকে দলে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত কোচিং স্টাফের কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রতিফলন।
অন্যদিকে, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার প্রস্তুতিও কম জটিলতায় ভরা ছিল না। সূচি নির্ধারণের নানা বাধার কারণে একাধিক পরিকল্পিত ম্যাচ বাতিল বা স্থগিত হয়। শেষ পর্যন্ত আফ্রিকার জাম্বিয়া ও মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ নিশ্চিত করে তারা।
বুয়েন্স আয়ার্সের লা বোম্বোনেরা স্টেডিয়ামে ২৭ মার্চ মৌরিতানিয়া এবং ৩১ মার্চ জাম্বিয়ার মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের আগে নিজেদের মাঠে এটিই তাদের শেষ প্রস্তুতি পরীক্ষা।
তবে স্কোয়াড ঘোষণার পর আর্জেন্টিনাও চোটের ধাক্কা সামলাতে বাধ্য হয়। ডিফেন্ডার গঞ্জালো মন্তিয়েল ও লিওনার্দো বালের্দি ছিটকে যাওয়ায় দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে নাহুয়েল মোলিনা ও লুকাস মার্টিনেজ কুয়ার্তাকে।
ফলে রক্ষণভাগে নতুন সমন্বয় গড়ে তোলাই এখন কোচিং স্টাফের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপের আগে এই প্রীতি ম্যাচগুলো শুধু ফলাফলের জন্য নয়, বরং দলগত ভারসাম্য ও বিকল্প কৌশল যাচাইয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সেখানে একাধিক খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে রক্ষণভাগে পরিবর্তনের কারণে ম্যাচ কৌশলেও ভিন্নতা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, প্রস্তুতির এই সংকটময় সময়ে চোটের ধাক্কা ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা,দুই দলকেই চাপের মধ্যে ফেলেছে।
এখন নজর থাকবে, এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে তারা কতটা কার্যকর পারফরম্যান্স দেখাতে পারে এবং বিশ্বকাপের আগে নিজেদের কতটা প্রস্তুত করে তুলতে সক্ষম হয়।






