কলম্বিয়ায় সামরিক বিমানে প্রাণহানি ৬৬: ১২১ আরোহীর ট্র্যাজেডি

২৩ মার্চ কলম্বিয়া-র ইকুয়েডর সীমান্তসংলগ্ন পুয়ের্তো লেগুইজামো এলাকায় বিধ্বস্ত হওয়া সামরিক পরিবহন বিমানটির ধ্বংসাবশেষ থেকে আগুনের শিখা ও ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যাচ্ছে। ছবি: ড্যানিয়েল অর্টিজ / এএফপি-গেটি ইমেজেস

হারকিউলিস সি-১৩০: বিশ্বের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সামরিক পরিবহন বিমান। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে দুর্গম অঞ্চলে ত্রাণ সরবরাহ—একটি অবিনাশী আকাশযান।

বিশ্ব ডেস্ক: দক্ষিণ আমেরিকার কলম্বিয়া-র পুতুমায়ো প্রদেশে সামরিক পরিবহন বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৬৬ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরও বহু সেনাসদস্য। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনাটি দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম প্রাণঘাতী বিমান বিপর্যয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সোমবার (২৩ মার্চ) পুয়ের্তো লেগুইজামো এলাকায় ১২১ আরোহী নিয়ে উড্ডয়ন করা হারকিউলিস সি-১৩০ মডেলের বিমানটি কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিধ্বস্ত হয়। দেশটির বিমানবাহিনীর কমান্ডার কার্লোস ফার্নান্দো সিলভা রুয়েদা জানান, বিমানে ১১৪ জন সেনাসদস্য এবং ১১ জন ক্রু সদস্য ছিলেন।

২৩ মার্চ কলম্বিয়া-র ইকুয়েডর সীমান্তসংলগ্ন পুয়ের্তো লেগুইজামো এলাকায় বিধ্বস্ত হওয়া সামরিক পরিবহন বিমানটির ধ্বংসাবশেষ থেকে আগুনের শিখা ও ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যাচ্ছে।
ছবি: ড্যানিয়েল অর্টিজ / এএফপি-গেটি ইমেজেস

প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, বিমানটি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের পরিবহনের দায়িত্বে ছিল এবং উড্ডয়নের সময়ই এটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। তিনি ঘটনাটিকে “গভীরভাবে বেদনাদায়ক” হিসেবে উল্লেখ করেন।

সামরিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানে আগুন ধরে যায় এবং ভেতরে থাকা গোলাবারুদ বিস্ফোরিত হয়, যা হতাহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়। নিহতদের মধ্যে সেনাসদস্য ছাড়াও বিমানবাহিনীর সদস্য এবং পুলিশ সদস্য রয়েছেন বলে জানা গেছে।

দুর্ঘটনার পর জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধ্বংসস্তূপে জীবিতদের খোঁজে তল্লাশি চালায়। স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে অংশ নেন এবং আহতদের মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন উপায়ে হাসপাতালে পৌঁছে দেন। পৌরসভার ডেপুটি মেয়র কার্লোস ক্লারোস জানান, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর বড় হাসপাতালগুলোতে স্থানান্তর করা হয়েছে।

বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আহতদের দ্রুত সরিয়ে নিতে বিশেষ সুবিধাসম্পন্ন দুটি আকাশ-অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করা হয়েছে।

গুস্তাভো পেত্রো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় দুর্ঘটনাটিকে “ভয়াবহ” উল্লেখ করে বলেন, এটি হওয়া উচিত ছিল না। তিনি সামরিক সরঞ্জাম আধুনিকায়নে প্রশাসনিক জটিলতার কথা তুলে ধরে দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস দেন।

দুর্ঘটনাটি পেরু সীমান্তের নিকটবর্তী দুর্গম এলাকায় ঘটায় উদ্ধারকাজে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়। পেরু এবং ইকুয়েডর সীমান্তঘেঁষা এই অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থানও পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে হঠাৎ বিপুলসংখ্যক আহত পৌঁছানোয় চিকিৎসা ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

বিধ্বস্ত বিমানটি ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের উপহার হিসেবে কলম্বিয়া পেয়েছিল। চার ইঞ্জিনবিশিষ্ট এই পরিবহন বিমান বিশ্বজুড়ে নির্ভরযোগ্য হিসেবে পরিচিত হলেও উড্ডয়নের অল্প সময়ের মধ্যেই এমন দুর্ঘটনা ঘটায় বিষয়টি গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানটি উড্ডয়নের উপযোগী ছিল এবং ক্রুরাও প্রশিক্ষিত ছিলেন। তবুও দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সতর্ক অবস্থান বজায় রাখার কথা জানিয়েছেন।

সূত্র: এপি, রয়টার্স, আল জাজিরা, বিবিসি ও কলম্বিয়া প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি