মিরপুর চিড়িয়াখানায় জনস্রোত, স্থবির সড়ক

ঈদের দ্বিতীয় দিনে চিড়িয়াখানামুখী ঢলে ভোগান্তির চরমে নগরবাসী

টুইট ডেস্ক: ঈদুল ফিতরের ছুটিতে রাজধানীর বিনোদনকেন্দ্রগুলোয় মানুষের উপচে পড়া ভিড় নতুন নয়।

তবে এবার মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানাকে কেন্দ্র করে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা নগর ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

ঈদের দ্বিতীয় দিনে চিড়িয়াখানামুখী দর্শনার্থীদের ঢলে মিরপুর-১ এলাকা থেকে আশপাশের সড়কগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়ে।

মিরপুর-১ নম্বরের সনি সিনেমা হল এলাকা পেরোতেই শুরু হয় দীর্ঘ যানজট।

রাইনখোলা মোড় থেকে চিড়িয়াখানার দিকে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করায় প্রায় এক কিলোমিটার পথ হেঁটে গন্তব্যে যেতে বাধ্য হন হাজারো মানুষ।

পরিবার-পরিজন নিয়ে আসা দর্শনার্থীদের অনেকেই মাঝপথেই যানবাহন ছেড়ে হেঁটে রওনা দেন।

দর্শনার্থীদের অভিযোগ, চিড়িয়াখানার ভেতরে যেমন ছিল অতিরিক্ত ভিড়, তেমনি বাইরে ছিল যানবাহনের তীব্র সংকট। বের হওয়ার পরও একই দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে তাদের।

গণপরিবহন না থাকায় অল্পসংখ্যক সিএনজি চালক অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করেন,যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।

যাত্রাবাড়ী থেকে পরিবার নিয়ে আসা এক দর্শনার্থী জানান, আসার সময় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ভাড়া গুনলেও ফেরার পথে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

দ্বিগুণের বেশি ভাড়া চাওয়ায় শেষ পর্যন্ত পরিবারসহ হেঁটেই রওনা দিতে হয়েছে। নারী ও শিশুদের জন্য এই ভোগান্তি আরও কষ্টকর হয়ে ওঠে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজধানীতে বড় ছুটির দিনে জনসমাগমের সম্ভাব্য চাপ বিবেচনায় নিয়ে আগাম পরিকল্পনা, বিকল্প যানব্যবস্থা এবং সড়ক ব্যবস্থাপনার সমন্বয় না থাকায় এ ধরনের পরিস্থিতি বারবার তৈরি হচ্ছে।

বিশেষ করে জনপ্রিয় বিনোদনকেন্দ্রগুলো ঘিরে পর্যাপ্ত গণপরিবহন ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, শুধুমাত্র যান চলাচল বন্ধ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর সমাধান নয়।

বরং নির্দিষ্ট রুটে শাটল সেবা, অস্থায়ী পার্কিং ব্যবস্থা এবং দর্শনার্থীদের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা চালু করা জরুরি।

ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে গিয়ে নগরবাসীর এমন ভোগান্তি প্রশ্ন তুলছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি ও সমন্বয় নিয়ে।

দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতেও একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।