চাঁদ দেখাই কমিটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

জ্যোতির্বিজ্ঞানভিত্তিক ঈদ-রোজা ‘অবৈধ’ উলামাদের কঠোর অবস্থান

টুইট ডেস্ক: জ্যোতির্বিজ্ঞান বা পূর্বনির্ধারিত হিজরি পঞ্জিকার ভিত্তিতে রোজা ও ঈদ পালনের প্রবণতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন দেশের একদল শীর্ষ আলেম।

তারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, চর্মচোখে চাঁদ দেখা ছাড়া রোজা ও ঈদ নির্ধারণের কোনো বিকল্প ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়; এর ব্যত্যয় সরাসরি কোরআন-সুন্নাহর নির্দেশনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার আজিমপুর ছাপড়া জামে মসজিদ মিলনায়তনে ‘দাওয়াতুস সুন্নাহ বাংলাদেশ’

এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক জরুরি আলোচনা সভা থেকে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির পরিচালক মুফতি জুবায়ের বিন আবদুল কুদ্দুস।

সভায় বক্তারা কোরআনের সূরা বাকারা (১৮৫) এবং সহিহ হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, রোজা ও ঈদ নির্ধারণে ‘চাঁদ দেখা’ই একমাত্র নির্ধারিত পদ্ধতি।

জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবকে বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করলে এই মৌলিক বিধান অকার্যকর হয়ে পড়ে, যা শরিয়তের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়।

মুফতি জুবায়ের বিন আবদুল কুদ্দুস তার বক্তব্যে বলেন, “নবী (সা.)-এর যুগে জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্পূর্ণ অনুপস্থিত ছিল এমন ধারণা সঠিক নয়।

তৎকালীন বিভিন্ন অঞ্চলে চন্দ্র পর্যবেক্ষণের চর্চা থাকলেও তিনি কখনোই সে পদ্ধতি অনুসরণের নির্দেশ দেননি।

সাহাবায়ে কেরামের যুগেও এর কোনো দৃষ্টান্ত নেই। ফলে জ্যোতির্বিজ্ঞানভিত্তিক নির্ধারণ ইসলামের বিধান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত নয়।”

তিনি আরও দাবি করেন, জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব শতভাগ নির্ভুল নয় এবং বাস্তবতার সঙ্গে অনেক সময় এর অমিল দেখা যায়।

সাম্প্রতিক উদাহরণ টেনে বক্তারা বলেন, কিছু জ্যোতির্বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট দিনে চাঁদ দেখা অসম্ভব বললেও বিভিন্ন দেশে বাস্তবে চাঁদ দেখার ঘোষণা এসেছে এবং সে অনুযায়ী রোজা ও ঈদ পালিত হয়েছে।

সভায় প্রধান অতিথি রহমানিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা শফিকুল ইসলাম বলেন, “মানুষের বয়স যেমন জন্মের দৃশ্যমান মুহূর্ত থেকে গণনা হয়, তেমনি চাঁদের হিসাবও দৃশ্যমান হওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।

তাই শরিয়ত যেখানে সরাসরি দেখার কথা বলেছে, সেখানে অনুমাননির্ভর পদ্ধতির অবকাশ নেই।”বক্তারা আরও বলেন, এক অঞ্চলে চাঁদ দেখা না গেলে অন্য দেশের ঘোষণার ওপর নির্ভর করাও শরিয়তসম্মত নয়।

স্থানীয়ভাবে চাঁদ দেখা সাপেক্ষেই রোজা ও ঈদ নির্ধারণ করতে হবে।সভায় মুফতি বাইজিদ বিন আনাস, মুফতি ইউশা শফিকী, মুফতি মহিউদ্দিনসহ দাওয়াতুস সুন্নাহর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে দোয়ার মাধ্যমে আলোচনা সভার সমাপ্তি ঘটে।আলোচনা সভা থেকে সর্বস্তরের মুসলমানকে শরিয়তের বিধান মেনে চলার আহ্বান জানানো হয় এবং জ্যোতির্বিজ্ঞাননির্ভর পদ্ধতি পরিহারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আলেমরা।