তাহেরপুরে তৃণমূলের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন আব্দুল আলিম বাবু

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম বাবু স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে একজন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতা হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে তিনি তৃণমূলের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন বলে মনে করছেন দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিএনপি পরিবারের সন্তান হওয়ায় শৈশব থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন তিনি। ১৯৯৮ সালে তাহেরপুর পৌরসভা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। পরে ২০০৩ সালে একই ইউনিটের সভাপতি এবং ২০০৯ সালে প্রত্যক্ষ ভোটে তাহেরপুর পৌরসভা যুবদলের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে সাংগঠনিক ভিত্তি আরও মজবুত করেন।

সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালে জেলা বিএনপির অনুমোদনে তাহেরপুর পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন আব্দুল আলিম বাবু। সর্বশেষ ২০২৩ সালে পুনরায় প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে একই পদে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তিনি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দলীয় কার্যক্রম জোরদারে সক্রিয় রয়েছেন।

রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন এই নেতা। বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট মহলের হয়রানি, মামলা ও হামলার শিকার হয়েছেন তিনি। ১৯৯৯ সালে একটি মামলায় জড়ানো, ২০০৬ সালে একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়ে তিন মাসের বেশি কারাভোগ এবং ২০১৪ সালে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় কয়েক মাস কারাবন্দি থাকার ঘটনাও রয়েছে তার জীবনে।

এছাড়া ২০২৩ সালের ১৪ মার্চ তাহেরপুরের হরিতলা মোড়ে প্রকাশ্যে তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের সহায়তায় সে সময় প্রাণে রক্ষা পান তিনি। পরবর্তীতে রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় তার বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগও ওঠে, যার ফলে একপর্যায়ে তাকে আত্মগোপনে থাকতে হয় এবং তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়।

তবে এত প্রতিকূলতার মধ্যেও রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে সরে যাননি আব্দুল আলিম বাবু। আত্মগোপনে থেকেও তিনি দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করেছেন।

দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন, তৃণমূল পর্যায়ে জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়ায় ভবিষ্যতে তাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখা যেতে পারে। এ বিষয়ে আব্দুল আলিম বাবু বলেন, “দল আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের চেষ্টা করেছি। আগামীতেও দলের নির্দেশনা অনুযায়ী তৃণমূলের মানুষের পাশে থাকতে চাই।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় সংযোগ এবং প্রতিকূলতা মোকাবেলার সক্ষমতা -এই তিনটি বিষয়ই তাকে আগামী দিনের নেতৃত্বে সম্ভাবনাময় অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে।