রায়ে জয়ের শিরোপা উল্টোপাল্টা

বোর্ডরুমের সিদ্ধান্তে সেনেগালকে হারিয়ে মরক্কোর ঐতিহাসিক জয়

টুইট প্রতিবেদক: রাবাতের নাটকীয় ফাইনালের দুই মাস পর এক নজিরবিহীন রায়ে আফ্রিকান ফুটবলের ইতিহাসে বড় পরিবর্তন এলো। মাঠে জয় পেয়েও শেষ পর্যন্ত শিরোপা ধরে রাখতে পারল না সেনেগাল।

আপিল বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে ম্যাচটি ৩-০ ব্যবধানে মরক্কোর পক্ষে ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো মহাদেশীয় শিরোপা ঘরে তুলল মরক্কো।

গত জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেছিল সেনেগাল। তবে ম্যাচের শেষ দিকে পেনাল্টি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়। ক্ষুব্ধ হয়ে প্রায় ১৫ মিনিট মাঠের বাইরে অবস্থান নেন সেনেগালের খেলোয়াড়রা।

সেই সময় দর্শকদের মধ্যেও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। পরে খেলা শুরু হলে মরক্কোর পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক এদুয়ার্দ মেন্দি, এবং অতিরিক্ত সময়ে পাপে গেইয়ের গোলে জয় পায় সেনেগাল।

কিন্তু সেই মাঠ ত্যাগের ঘটনাই শেষ পর্যন্ত তাদের বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শৃঙ্খলা বোর্ড প্রথমে জরিমানা ও নিষেধাজ্ঞা দিলেও ফল অপরিবর্তিত রাখে।

পরে মরক্কোর ফুটবল সংস্থার আপিলের প্রেক্ষিতে আপিল বোর্ড নিয়মের সংশ্লিষ্ট ধারা প্রয়োগ করে সেনেগালকে ম্যাচ পরিত্যাগকারী ঘোষণা করে। ফলস্বরূপ ম্যাচটি মরক্কোর পক্ষে দেওয়া হয়।

এই সিদ্ধান্তকে কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছে সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশন। তারা রায়টিকে ‘অসাধু, নজিরবিহীন ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছে।

ফেডারেশন জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সালিশি আদালতে আপিল করবে। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে মরক্কো ঘরের মাঠে শিরোপা জয়ের আনন্দে ভাসছে। তবে এই জয়কে ঘিরে বিতর্ক থামছে না। মাঠের লড়াইয়ের বদলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

আফ্রিকান ফুটবলের শৃঙ্খলা, নিয়ম প্রয়োগ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

সব মিলিয়ে, এখন দৃষ্টি সেনেগালের আপিলের দিকে। শেষ পর্যন্ত শিরোপা কি ফিরে যাবে সেনেগালের হাতে, নাকি মরক্কোর কাছেই থাকবে তার চূড়ান্ত উত্তর দেবে সময়ই।