রেফারি-আম্পায়ারদের জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের ঘোষণা; দুর্নীতিমুক্ত ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ার প্রতিশ্রুতি।
টুইট ডেস্ক: ক্রীড়াঙ্গনের মূল স্তম্ভ রেফারি ও আম্পায়ারদের দীর্ঘদিনের অবহেলা দূর করে তাদের জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের আওতায় আনতে নতুন পরিকল্পনা নিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। এই পদক্ষেপ ক্রীড়া ও সাব ব্যবস্থাপনায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা, কারণ প্রতিটি খেলায় রেফারির অপরিহার্য ভূমিকা থাকলেও তারা এতদিন পরিষদের বাইরে ছিলেন। ফলে সম্মানী ও সুবিধা পাওয়া ছিল অনিশ্চিত।
গতকাল সোমবার জাতীয় স্টেডিয়াম পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি ক্ষেত্রে ও খেলায় রেফারির প্রয়োজন হয় অথচ তারা ক্রীড়া পরিষদের আওতায় নেই।
আমাদের নির্বাহী পরিচালকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে যে, পরবর্তীতে সব রেফারিকে পরিষদের আওতায় এনে যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো যায় এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা পর্যাপ্ত পরিমাণে দেওয়া যায়। এ নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা আলোচনা শুরু করেছি। পরবর্তীতে রেফারিদের সঙ্গে বসতে হবে। ক্রীড়া পরিষদের নীতিমালায় কিছু জায়গায় পরিবর্তন দরকার হতে পারে।
সেগুলো করে আমরা চাই রেফারিরাও আমাদের একটি অংশ হয়ে উঠুক এবং তাদের ভিতরে নিয়ে আসা হোক।’
এই উদ্যোগের ফলে রেফারি ও আম্পায়াররা সরকারি সম্মানীসহ নিয়মিত সুবিধা পাবেন, যা খেলার সততা ও মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর চাপও কমবে এবং পেশাদারিত্ব বাড়বে।
একই পরিদর্শনে মিরপুর জাতীয় সুইমিং পুলের বৈদ্যুতিক ফলাফল সূচক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।
পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে এটি নষ্ট থাকায় প্রতিযোগিতা চলছে হাতঘড়ি দিয়ে সময় নির্ধারণ করে। পুলে গ্যাসের সমস্যাও দীর্ঘদিনের।
প্রতিমন্ত্রী এসব সমস্যার দিকে নজর দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।তাছাড়া ফলাফল সূচকের দাম পাঁচ কোটি টাকা হতে পারে না বলে স্পষ্ট মন্তব্য করেন তিনি।
বলেন, ‘যারা এটা স্থাপন করেছে, দুর্নীতির জন্যই করেছে। আমার এখানে দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে শতভাগ প্রস্তুত আছি আমি।’
জাতীয় স্টেডিয়াম পরিদর্শনের এই ঘটনা ক্রীড়া অবকাঠামোর উন্নয়ন ও দুর্নীতিমুক্ত ব্যবস্থাপনায় প্রতিমন্ত্রীর দৃঢ় অঙ্গীকারকে তুলে ধরেছে। পরবর্তী পদক্ষেপগুলো কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, সেদিকে এখন সবার দৃষ্টি।






