রাজশাহীতে জ্বালানি লিটার প্রতি ২০০ কাছাকাছি: অভিযান নেই

বাগমারায় জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা। অভিযান কম, তবে চড়াদাম ও অবৈধ বিক্রির অভিযোগ; এলপিজিতে জরিমানা।
রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেল (পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন) বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলেও বড় ধরনের কোনো অভিযান দৃশ্যমান হয়নি। তবে চড়াদামে বিক্রি, সীমিত সরবরাহ ও অবৈধ বিক্রির অভিযোগে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
রমজান ও আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে সারাদেশে জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়ার সুযোগে কিছু অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে—এমন প্রেক্ষাপটে সরকার দেশব্যাপী নজরদারি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত জোরদার করেছে।
বাগমারার চিত্র: অভিযোগ, কিন্তু অভিযান সীমিত
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাগমারার বিভিন্ন বাজারে পেট্রোলের দাম হঠাৎ বেড়ে লিটারপ্রতি প্রায় ২০০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছানোর অভিযোগ উঠেছে। যদিও সরকারি নির্ধারিত দামের বাইরে এ ধরনের বিক্রি সম্পূর্ণ অবৈধ, তবুও সরাসরি বড় ধরনের অভিযানের নজির মার্চ মাসে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় খুচরা তেল ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আগে তারা মোটরসাইকেলের জন্য তাহেরপুর ও ভবানীগঞ্জ বাজারের পাম্প থেকে ২০–৩০ লিটার তেল কিনে সামান্য লাভে (প্রতি লিটারে ১ টাকা) বিক্রি করতেন।
কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। অভিযোগ উঠেছে, পাম্পগুলো অবৈধভাবে প্রতি লিটারে ৫০–৬০ টাকা পর্যন্ত বেশি নিচ্ছে। এর ফলে খুচরা পর্যায়ে বিভিন্ন বাজারে পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
একই চিত্র বাগমারার প্রায় সব পাম্পেই দেখা যাচ্ছে বলে দাবি ব্যবসায়ী ও গ্রাহকদের। এতে ছোট বিক্রেতারা চাপে পড়ছেন এবং বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়ছে।
অভিযোগ ও সুত্র মতে, এ অনিয়মের সঙ্গে প্রশাসনের একটি প্রভাবশালী চক্র জড়িত। এমন তথ্য একাধিক পাম্প মালিক, গ্রাহক ও স্থানীয় অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
পুরনো অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলার কিছু এলাকায় লাইসেন্সবিহীন দোকান বা অস্থায়ী ডিপো থেকে জ্বালানি তেল বিক্রি হয়ে থাকে, যা শুধু বাজারে বিশৃঙ্খলাই তৈরি করছে না, বরং মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকিও সৃষ্টি করছে।
তাহেরপুরে এলপিজিতে জরিমানা
তবে জ্বালানি খাতের বাইরে নয়, সংশ্লিষ্ট খাতে আংশিক অভিযান হয়েছে। বাগমারার তাহেরপুর হাটে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এলপিজি গ্যাস নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে দুই ব্যবসায়ীকে মোট ১ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এটি প্রমাণ করে যে প্রশাসন সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় নয়, তবে পেট্রোল-ডিজেল খাতে নজরদারি তুলনামূলকভাবে কম বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
রাজশাহীজুড়ে চাপ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা
রাজশাহী শহরসহ আশেপাশের এলাকায় পেট্রোল পাম্পগুলোতে ভিড় ও সরবরাহ সংকটের কারণে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অনেক পাম্পে পুলিশ মোতায়েন করে শৃঙ্খলার সঙ্গে তেল বিক্রি নিশ্চিত করা হচ্ছে।
কিছু ক্ষেত্রে অভিযোগ উঠেছে। পাম্পে সরবরাহ বন্ধ রেখেও সীমিতভাবে তেল বিক্রি চালু রাখা হচ্ছে, যা বাজারে কৃত্রিম সংকটের ইঙ্গিত দেয়।
দেশব্যাপী অভিযানের প্রভাব
বাগমারায় বড় অভিযান না থাকলেও দেশের অন্যান্য জেলায় কঠোর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে।
পাবনা, যশোর, মাগুরা ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন জেলায় হাজার হাজার লিটার জ্বালানি তেল জব্দ, জরিমানা ও আটক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
এসব অভিযান জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে চলছে, যার প্রভাব রাজশাহী অঞ্চলেও পড়ছে।
কেন বাগমারায় অভিযান কম?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাগমারায় বড় ধরনের অভিযান কম দৃশ্যমান হওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে—
প্রশাসনের ফোকাস শহরকেন্দ্রিক পাম্পগুলোর দিকে বেশি থাকা।
অবৈধ বিক্রির তথ্যের ঘাটতি বা প্রমাণের অভাব
ছোট পরিসরে ছড়িয়ে থাকা ডিপো, যা শনাক্ত করা কঠিন।
এলপিজি ও বৃহৎ মজুতের দিকে অগ্রাধিকার।
তবে এ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বাজারে অরাজকতা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জনসাধারণের করণীয়
প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত দামের বেশি নিলে তাৎক্ষণিক অভিযোগ করতে হবে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হেল্পলাইন ১৬১২১–এ যোগাযোগ করা যাবে।
স্থানীয় ইউএনও বা জেলা প্রশাসনকে অবহিত করলে দ্রুত অভিযান পরিচালনা সম্ভব।
বাগমারায় জ্বালানি তেলের বাজার এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না গেলেও অনিয়মের ইঙ্গিত স্পষ্ট। বড় ধরনের অভিযান না থাকায় অসাধু চক্র সক্রিয় হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে বাজার স্থিতিশীল রাখতে এখনই কঠোর নজরদারি ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ জরুরি। নচেৎ সাধারণ ভোক্তার ওপর চাপ আরও বাড়বে।






