হরমুজ প্রণালী সুরক্ষায় মিত্রদের ডাক দিলেন ট্রাম্প

হরমুজ ঘিরে যুদ্ধের তীব্রতা: ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের ১৬তম দিনে প্রণালী সুরক্ষায় মিত্রদের আহ্বান ট্রাম্পের, প্রতিশোধের হুমকি তেহরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে চলমান সংঘাতের ১৬তম দিনে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিত্র দেশগুলোর প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

একই সঙ্গে ইরান জানিয়েছে, তারা শত্রু দেশগুলোর জন্য প্রণালী বন্ধ রাখার নীতি থেকে সরে আসবে না।

সোমবার (১৬ মার্চ) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী ঘিরে সামরিক তৎপরতা বাড়ছে। বৈশ্বিক তেল সরবরাহের উল্লেখযোগ্য অংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

হরমুজ প্রণালী নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এটি খোলা ও নিরাপদ রাখতে মিত্র দেশগুলোর যৌথ উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যসহ একাধিক দেশকে সামরিক জাহাজ পাঠিয়ে প্রণালী নিরাপত্তায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

ট্রাম্প আরও সতর্ক করে বলেন, মিত্ররা সহযোগিতা না করলে উত্তর আটলান্টিক জোটের ভবিষ্যৎও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। তবে এখন পর্যন্ত সম্ভাব্য জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছ থেকে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি।

এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এমনও দাবি করা হয়েছে যে, প্রণালীতে চলাচল স্বাভাবিক না হলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখলের সম্ভাব্য পরিকল্পনাও বিবেচনায় রাখছে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন।

প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি তেহরানের

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই বলেছেন, দেশটির বিরুদ্ধে হামলার জবাব অব্যাহত থাকবে। ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী জানিয়েছে, ইসরায়েলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও লক্ষ্যভিত্তিক হামলার পরিকল্পনা রয়েছে।

তেহরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। এর জবাবে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে।

লেবাননে ইসরায়েলি অভিযান

এদিকে লেবাননে হিজবুল্লাহর ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক হামলায় আট শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নারী, শিশু ও স্বাস্থ্যকর্মীও রয়েছেন।

এছাড়া সংঘাতের কারণে প্রায় আট লক্ষ পঞ্চাশ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, তারা হিজবুল্লাহর রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও অস্ত্রাগার লক্ষ্য করেই হামলা পরিচালনা করছে।

উপসাগরে প্রতিরক্ষা তৎপরতা

সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও চালকবিহীন আকাশযান প্রতিহত করেছে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এরপর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে বর্তমান উত্তেজনা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

(সূত্র: রয়টার্স, এএফপি, আল জাজিরা, বিবিসি ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলো)