শবে কদর আজ রাতেই

মহিমান্বিত লাইলাতুল কদরে ইবাদতের প্রস্তুতি, করণীয়–বর্জনীয় ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য।
টুইট ডেস্ক: বাংলাদেশে আজ সোমবার (১৬ মার্চ) দিবাগত রাতে পবিত্র লাইলাতুল কদর বা শবে কদর পালিত হচ্ছে। ইসলাম ধর্মের অন্যতম ফজিলতপূর্ণ এই রাতকে মুসলমানদের জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বিশেষ সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইসলামী বর্ণনায় বলা হয়েছে, এই রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।
হাদিসে বর্ণিত আছে, রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করতে বলা হয়েছে। তবে বাংলাদেশের ধর্মীয় প্রথা অনুযায়ী রাষ্ট্রীয়ভাবে ২৭ রমজানের রাতকেই শবে কদর হিসেবে পালন করা হয়। চলতি বছরে সেই রাত পড়েছে ১৬ ও ১৭ মার্চের মধ্যবর্তী রাতে।
ইসলামের ইতিহাস অনুযায়ী, এই মহিমান্বিত রাতেই মহান আল্লাহ তাআলা মানবজাতির পথনির্দেশিকা পবিত্র কুরআনের অবতরণ শুরু করেন। নবী মুহাম্মদ (সা.) হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন অবস্থায় থাকাকালে ফেরেশতা জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে প্রথম ওহি অবতীর্ণ হয়। সূরা আলাকের প্রথম পাঁচ আয়াত এই রাতে নাজিল হয় বলে ঐতিহাসিক সূত্রে উল্লেখ রয়েছে।
পবিত্র কুরআনের সূরা কদরে বলা হয়েছে, “নিশ্চয়ই আমি কুরআন নাজিল করেছি লাইলাতুল কদরে। লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। সে রাতে ফেরেশতা ও রূহ তাদের পালনকর্তার অনুমতিক্রমে প্রত্যেক কাজ নিয়ে অবতরণ করে। শান্তিময় সেই রাত ফজর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।”
শবে কদরের করণীয় আমল
ধর্মীয় বিদ্বানদের মতে, এই রাতে ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের বিশেষ সুযোগ রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলোর মধ্যে রয়েছে। সূর্যাস্তের পর থেকেই ইবাদতের প্রস্তুতি গ্রহণ, ফরজ নামাজের পাশাপাশি বেশি বেশি নফল ও তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়, পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ও দোয়া-মোনাজাতে সময় ব্যয়, জিকির, দরুদ শরিফ ও তওবা-ইস্তিগফার করা, দান-সদকা বৃদ্ধি করা, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীর প্রতি সদাচরণ করা, যেসব কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত।
এই পবিত্র রাতের মর্যাদা রক্ষায় কিছু কাজ থেকে দূরে থাকারও পরামর্শ দিয়েছেন আলেমরা। যেমন—
অবহেলায় বা ঘুমিয়ে রাত কাটানো, অপ্রয়োজনীয় আড্ডা বা হৈ-হুল্লোড়ে সময় নষ্ট করা, আতশবাজি বা গোলা ফোটানো, হিংসা-বিদ্বেষ ও গুনাহের কাজে জড়িয়ে পড়া, চিৎকার-চেঁচামেচি বা অশোভন আচরণ করা।
ইতিহাস ও তাৎপর্য
ইসলামী বর্ণনায় বলা হয়েছে, পূর্ববর্তী উম্মতদের দীর্ঘ জীবনের কারণে তাদের ইবাদতের সময়ও দীর্ঘ ছিল। এ নিয়ে সাহাবিদের মধ্যে আক্ষেপ দেখা দিলে মহান আল্লাহ তাআলা উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য লাইলাতুল কদরের বিশেষ নিয়ামত দান করেন। ফলে এই এক রাতের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের সমান মর্যাদা লাভ করে।
ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা বিশ্বাস করেন, এই রাতে দোয়া কবুল হয়, গুনাহ মাফ করা হয় এবং ফেরেশতারা পৃথিবীতে অবতরণ করে আল্লাহর রহমত বর্ষণ করেন।
ধর্মীয় নেতারা মুসলমানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন—রমজানের শেষ দশকের সব বিজোড় রাতেই ইবাদত বাড়িয়ে লাইলাতুল কদরের ফজিলত অর্জনের চেষ্টা করতে। আল্লাহর কাছে বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনা ও মানবতার কল্যাণে দোয়া করার মধ্য দিয়েই এ রাতের প্রকৃত তাৎপর্য বাস্তবায়িত হয়।






