মরুভূমি থেকে বিশ্বমঞ্চে সৌদি ফুটবলের বিস্ময় ম্যারাডোনা

মরুভূমির ম্যারাডোনার একক কীর্তি সৌদি ফুটবলের গৌরবের প্রতীক।
টুইট প্রতিবেদক: ১৯৯৪ সালের ২৯ জুন, ওয়াশিংটন ডিসির রবার্ট এফ. কেনেডি স্মৃতিস্তম্ভের খেলার মাঠে ইতিহাসের এক মহাকাব্য লেখা হয়। সেই দিন, মরুভূমির তপ্ত রোদ আর নীল আকাশের সঙ্গী হয়ে, সৌদি আরবের যুবক খেলোয়াড় আল-ওয়াইরান মাঠে নেমে ইতিহাস গড়েন।
বিশ্ব ক্রীড়া মহলে তিনি পরিচিত হন ‘মরুভূমির ম্যারাডোনা’ নামে। ম্যাচের শুরুতে মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে সৌদি দলের রক্ষণভাগ থেকে বলটি আল-ওয়াইরানের কাছে পৌঁছায়। নিজের অর্ধ থেকে দৌড় শুরু করে তিনি প্রতিপক্ষ দলের দুই প্রহরীকে গতির ছন্দে ছাপিয়ে যান। প্রতিপক্ষের চারজন প্রতিরক্ষক তাকে আটকানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। বলটি যেন তার পায়ে আটকে আছে, এক অদৃশ্য জাদুকাঠির মতো।
পেনাল্টি বক্সে পৌঁছালে তার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন সেই সময়ের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক প্রুদোম। ক্লান্তি ও উত্তেজনার মধ্যে আল-ওয়াইরান বলটি চিপ করে জালে পাঠান। গোল করার সঙ্গে সঙ্গে তিনি ভারসাম্য হারিয়ে সবুজ মাঠে লুটিয়ে পড়েন। মাঠের দর্শকরা তখন বিমূঢ়, যেন ১৯৮৬ সালের ম্যারাডোনার ঐশ্বরিক গোলের পুনর্জন্ম দেখছেন। সৌদি আরব ঐ একক গোলের জন্য ১-০ ব্যবধানে জিতে ইতিহাস গড়ে।
সেই বছরের শেষভাগে আল-ওয়াইরান নির্বাচিত হন ‘এশিয়ার বর্ষসেরা খেলোয়াড়’ হিসেবে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া পরিসংখ্যান সংস্থা তাকে বিশ্বের সেরা গোলদাতার তালিকায় শীর্ষের দিকে রাখে। সৌদি বাদশা ফাহাদ বিন আব্দুল আজিজ তাকে দামী রোলস রয়েস এবং অঢেল ধনসম্পদ প্রদান করেন।
কিন্তু খ্যাতির শিখর থেকে পতনের গল্পও ছিল নাটকীয়। ১৯৯৬ সালে জেদ্দার এক প্রমোদতরণীতে নৈতিকতা ভঙ্গের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার পর এক বছরের জন্য খেলার থেকে নিষিদ্ধ হন। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে মাঠে ফেরার পরও পূর্বের প্রখরতা আর চাঞ্চল্য ফিরে পাননি।
ম্যারাডোনার উত্তরসূরি হওয়ার স্বপ্ন দীর্ঘস্থায়ী না হলেও আল-ওয়াইরান প্রমাণ করেছিলেন মরুভূমির ধূলিকণা থেকেও এমন এক আলোর বিচ্ছুরণ সম্ভব, যা দর্শককে মুগ্ধ করতে পারে। আজও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থার নথিতে সেই একক গোলের ভিডিও বারবার ফিরে আসে—যেখানে যুবকের পায়ের ছন্দে থমকে গিয়েছিল প্রতিপক্ষ, থমকে গিয়েছিল সময়ও।






