২৫তম তারাবি: আল্লাহর সুন্দর নামের মহিমা

২৮তম পারায় ৯টি সূরার শিক্ষা ঈমান, তাকওয়া ও মানবজীবনের দিকনির্দেশনা।

টুইট ডেস্ক: রমজানের ২৫তম তারাবিতে পবিত্র কোরআনের ২৮তম পারা তিলাওয়াত করা হয়। এতে মোট নয়টি সূরা পাঠ করা হবে সূরা মুজাদালা, সূরা হাশর, সূরা মুমতাহিনা, সূরা সাফ, সূরা জুমুআ, সূরা মুনাফিকুন, সূরা তাগাবুন, সূরা তালাক ও সূরা তাহরিম। এসব সূরায় ঈমান, সামাজিক আচরণ, পারিবারিক বিধান এবং আল্লাহর মহিমা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হয়েছে।

সূরা আল মুজাদালা (২২ আয়াত) দিয়ে আজকের পারা শুরু হয়। এতে শরিয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান আলোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি মজলিসের আদব, মুনাফিকদের আচরণ এবং আল্লাহর দল ও শয়তানের দলের পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে।

সূরা আল হাশর (২৪ আয়াত) আল্লাহর তাসবিহ ও প্রশংসার মাধ্যমে শুরু হয়েছে। এতে অপরাধের কারণে ইহুদি গোত্র বনু নজিরকে মদিনা থেকে বহিষ্কারের ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া যুদ্ধ ছাড়াই অর্জিত সম্পদ বণ্টনের বিধান এবং নবীজির নির্দেশ মানার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

সূরার শেষাংশে আল্লাহর গুণাবলির বর্ণনা রয়েছে।
সূরা আল মুমতাহিনা (১৩ আয়াত) মুসলমানদের জন্য কাফেরদের সঙ্গে সম্পর্কের নীতিমালা নির্ধারণ করে।

ইসলাম গ্রহণ করে মদিনায় হিজরত করা নারীদের ঈমান যাচাইয়ের প্রসঙ্গও এখানে এসেছে। সূরার শেষে কাফেরদের সঙ্গে বন্ধুত্ব থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সূরা আস সাফ (১৪ আয়াত) আল্লাহর মহিমা ঘোষণার মাধ্যমে শুরু হয়েছে। এতে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জান-মাল কোরবানি এবং তাঁর পথে সংগ্রামের প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। ঈমানদারদের আল্লাহর দ্বীনের সাহায্যে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সূরা আল জুমুআ (১১ আয়াত) আল্লাহর প্রশংসা ও রাসুলুল্লাহ (সা.)–এর দায়িত্ব ও উদ্দেশ্য তুলে ধরে। এতে জুমার নামাজের গুরুত্ব বর্ণনা করে বলা হয়েছে, আজান শোনামাত্রই ব্যবসা-বাণিজ্য ছেড়ে নামাজে উপস্থিত হতে হবে।
সূরা আল মুনাফিকুন (১১ আয়াত) মুনাফিকদের ভণ্ডামি, মিথ্যাচার এবং মুসলমানদের প্রতি বিদ্বেষের চিত্র তুলে ধরে। এতে বলা হয়েছে, প্রকৃত সম্মান একমাত্র আল্লাহর হাতেই। দুনিয়ার মোহে পড়ে আখেরাত ভুলে না যাওয়ার সতর্কতাও দেওয়া হয়েছে।
সূরা আর তাগাবুন (১৩ আয়াত) আল্লাহর প্রশংসার ঘোষণা দিয়ে শুরু হয়েছে। এতে মানুষের দুই শ্রেণির কথা বলা হয়েছে একদল কৃতজ্ঞ, অন্যদল অকৃতজ্ঞ। কেয়ামতের দিনকে ‘লোকসানের দিন’ হিসেবে উল্লেখ করে ঈমানদারদের তাকওয়া ও দানশীলতার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সূরা আল তালাক (১২ আয়াত) পারিবারিক ও বৈবাহিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিধান তুলে ধরে। এতে তালাক, ইদ্দত, ভরণপোষণ এবং দাম্পত্য জীবনের নানা দিক নিয়ে নির্দেশনা রয়েছে। আল্লাহকে ভয় করার উপকারিতাও এখানে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূরা আর তাহরিম (১২ আয়াত) নবী পরিবারের একটি ঘটনার আলোচনার মাধ্যমে শুরু হয়েছে। এতে মুসলমানদের নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শেষে নবী নূহের অবিশ্বাসী স্ত্রী এবং ফেরাউনের ঈমানদার স্ত্রীর উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে।

রমজানের শেষ দশকে এসব সূরার শিক্ষা মানুষকে আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া ও আল্লাহভীতির পথে এগিয়ে যেতে আহ্বান জানায়। বিশেষত পারিবারিক জীবন, সামাজিক আচরণ এবং ঈমানের দৃঢ়তার বিষয়ে কোরআনের নির্দেশনাগুলো মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পথনির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হয়।