নিম্নমানের লাচ্ছা সেমাইয়ে সয়লাব রংপুরের বাজার

ঈদ সামনে রেখে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদনের অভিযোগ, নকল বিএসটিআই সিল ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা।

রংপুর প্রতিনিধি: পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে রংপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন উপ‌জেলার হাটবাজারে নিম্নমানের লাচ্ছা সেমাইয়ের ছড়াছড়ি দেখা যাচ্ছে। বাহারি ও চকচকে প্যাকেটে বাজারজাত করা এসব সেমাইয়ের মান, উপাদান ও উৎপাদন প্রক্রিয়া নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হওয়া অনেক সেমাই নীলফামারীর সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ এলাকার কিছু গ্রামে তৈরি হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব সেমাই অনেক ক্ষেত্রে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদন করে পরে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহার করে বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অধিক মুনাফার আশায় কিছু অসাধু উৎপাদক নিম্নমানের ময়দা, পাম তেল, পোড়া তেল, এমনকি পচা ডিম ও পশুর চর্বি ব্যবহার করে লাচ্ছা সেমাই তৈরি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব সেমাই অনেক সময় পলিথিন প্যাকেটে বা খোলা অবস্থায় বাজারে বিক্রি করা হয়।

বাজারে থাকা অনেক প্যাকেটের গায়ে ‘ঘি ও ডালডায় ভাজা’ লেখা থাকলেও বাস্তবে অধিকাংশ সেমাই পাম তেলে ভাজা হয় বলে স্থানীয়দের দাবি। এতে সেমাইয়ের মান কমে যাওয়ার পাশাপাশি ভোক্তাদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

এছাড়া অনেক প্যাকেটে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)–এর সিল ব্যবহার করা হলেও সেগুলোর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেক পণ্যের প্যাকেটে উৎপাদনের তারিখ বা মেয়াদোত্তীর্ণের সময়ও উল্লেখ নেই, যা ভোক্তা সুরক্ষার ক্ষেত্রে বড় ধরনের উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারাগঞ্জ উপ‌জেলায় এর ব‌্যাপকতা বেশী দেখা গে‌ছে।

এ বিষয়ে তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. হামদুল্লাহ বলেন, নিম্নমানের লাচ্ছা সেমাই খেলে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তিনি জানান, সেমাই তৈরিতে অনেক সময় পাম তেল, কৃত্রিম রং এমনকি কাপড় রাঙাতে ব্যবহৃত রংও ব্যবহার করা হয়, যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

তিনি আরও বলেন, এসব সেমাই খেলে পেটের নানা সমস্যা, ডায়রিয়া, আমাশয় ও খাদ্য বিষক্রিয়ার মতো রোগ দেখা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে লিভার ও কিডনির জটিলতা এমনকি ক্যান্সারের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি, কারণ তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক কম।

স্থানীয় সচেতন মহল ঈদকে সামনে রেখে বাজারে নজরদারি জোরদার এবং ভেজাল বা নিম্নমানের খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে ভোক্তাদেরও পণ্য কেনার আগে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা, অনুমোদনের সিল, উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদোত্তীর্ণের তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।