২৪ তম তারাবিতে ২৭তম পারা ‘তোমরা রবের কোন কোন নেয়ামত কে অস্বীকার করবে’

সূরা যারিয়াত থেকে সূরা হাদীদ পর্যন্ত তিলাওয়াত; কোরআনের শিক্ষা,আল্লাহর নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা ও আখিরাতের প্রস্তুতি।
টুইট ডেস্ক: রমজান মাসের ২৪তম তারাবিতে পবিত্র কোরআনের ২৭তম পারা তিলাওয়াত করা হবে। এ পারায় রয়েছে মানবজাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ, আল্লাহর অসংখ্য নেয়ামতের স্মরণ, কেয়ামতের সতর্কবার্তা এবং ঈমানদারদের জন্য সুসংবাদ। আজকের তারাবিতে সূরা যারিয়াতের শেষাংশ, সূরা তূর, সূরা নাজম, সূরা ক্বমার, সূরা রহমান, সূরা ওয়াকিয়া ও সূরা হাদীদ তিলাওয়াত করা হবে।
পারা শুরু হয়েছে সূরা যারিয়াতের শেষ অংশ দিয়ে। এখানে ফেরাউন সম্প্রদায়, আদ ও সামুদ জাতি এবং হজরত নুহ ও লুত (আ.) এর জাতির ধ্বংসের ঘটনা স্মরণ করিয়ে মানুষের জন্য সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঘোষণা করা হয়েছে,জিন ও মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে একমাত্র আল্লাহর ইবাদতের জন্য এবং সকল রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহ তায়ালার ওপর ন্যস্ত।
সূরা তূরে জাহান্নামের ভয়াবহতা এবং জান্নাতে মুত্তাকিদের জন্য প্রতিদানের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এতে মুশরিকদের তুচ্ছতাচ্ছিল্যের জবাবে নবী মুহাম্মদ (সা.) কে ধৈর্য ধরে দাওয়াতের কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আল্লাহর একত্ববাদের শক্ত প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে।
সূরা নাজমে মহানবী (সা.) এর সত্যবাদিতা এবং মিরাজের ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে মূর্তি পূজা ও ফেরেশতাদের আল্লাহর কন্যা বলার ভ্রান্ত ধারণার কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। সূরায় বলা হয়েছে প্রত্যেক মানুষ নিজ কর্মের জন্য নিজেই দায়ী হবে, অন্য কারও পাপের বোঝা কেউ বহন করবে না।
সূরা ক্বমারে কেয়ামতের আসন্নতার কথা উল্লেখ করে নবী করিম (সা.) এর মোজেজা হিসেবে চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়ার ঘটনাও বর্ণিত হয়েছে। পূর্ববর্তী ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিগুলোর উদাহরণ দিয়ে আল্লাহ বারবার প্রশ্ন করেছেন,‘কেমন ছিল আমার শাস্তি!’ একই সঙ্গে কোরআনকে মানুষের জন্য সহজ করে দেওয়া হয়েছে বলে উপদেশ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সূরা রহমান বিশেষভাবে আল্লাহর নেয়ামতের আলোচনা নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছে। এতে দুনিয়া ও আখিরাতের অসংখ্য অনুগ্রহের কথা স্মরণ করিয়ে ৩১ বার প্রশ্ন করা হয়েছে ‘অতএব তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নেয়ামত অস্বীকার করবে?’
সূরা ওয়াকিয়ায় কেয়ামতের দৃশ্য, মানুষের তিনটি শ্রেণি অগ্রগামী নেককার, সাধারণ জান্নাতি ও অবিশ্বাসীদের অবস্থার বর্ণনা রয়েছে। সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, নিয়মিত সূরা ওয়াকিয়া পাঠ করলে আল্লাহ অভাব থেকে হেফাজত করেন,যদিও প্রকৃত জ্ঞান আল্লাহর কাছেই রয়েছে।
পারা শেষ হয়েছে সূরা হাদীদ দিয়ে। এখানে বলা হয়েছে, বিশ্বজগতের সবকিছু আল্লাহর সৃষ্টি এবং তাঁরই মালিকানাধীন। ঈমানদারদের আল্লাহর পথে জানমাল ব্যয় করার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং দুনিয়ার অস্থায়ী মোহে বিভ্রান্ত না হওয়ার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। সূরার শেষাংশে আল্লাহভীরু মুমিনদের জন্য দ্বিগুণ প্রতিদান এবং নূরের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
রমজানের তারাবির তিলাওয়াতের এই আয়াতগুলো মুসলমানদের জন্য কৃতজ্ঞতা, তওবা এবং আখিরাতমুখী জীবনের আহ্বান বহন করে। ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, এসব আয়াত মানুষের হৃদয়ে আল্লাহর নেয়ামতের উপলব্ধি জাগিয়ে তোলা এবং সত্যের পথে দৃঢ় থাকার অনুপ্রেরণা দেয়।






