সাবিনা ইয়াসমিনের কালজয়ী গানের নতুন আবহ

৪৪ বছর পর আবারও ‘এই মন তোমাকে দিলাম’ নতুন সংগীতায়োজনে গাইলেন সাবিনা ইয়াসমিন, ‘দম’ সিনেমায় যুক্ত হলো নস্টালজিয়া।
টুইট প্রতিবেদক: বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সংগীতের ইতিহাসে কালজয়ী এক নাম ‘এই মন তোমাকে দিলাম’। ১৯৮২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মানসী’ চলচ্চিত্রে প্রথমবার গানটি কণ্ঠ দেন দেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন।
দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় পর আবারও নতুন সংগীতায়োজনে সেই জনপ্রিয় গানটি গেয়েছেন তিনি। নতুন সংস্করণটি ব্যবহার করা হয়েছে নির্মাতা রেদওয়ান রনি পরিচালিত ‘দম’ সিনেমায়।
মূল গানটির কথা লিখেছিলেন কিংবদন্তি গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার এবং সুর করেছিলেন সংগীত পরিচালক আনোয়ার পারভেজ। নতুন সংস্করণে মূল আবহ বজায় রেখে কিছু নতুন কথা যুক্ত করেছেন তন্ময় পারভেজ। গানটির সংগীত পরিচালনা করেছেন আরাফাত মহসীন নিধি।
রাজধানীর একটি স্টুডিওতে ১১ মার্চ গানটির রেকর্ডিং সম্পন্ন হয়। নতুন সংস্করণে সাবিনা ইয়াসমিনের সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন তরুণ শিল্পী মোমিন বিশ্বাস। রেকর্ডিং শেষে প্রতিক্রিয়ায় সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, নতুন গানটির সংগীতায়োজন তার ভালো লেগেছে বলেই তিনি কাজটি করেছেন।
পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করতে পারাও তার কাছে আনন্দের।‘দম’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা আফরান নিশো ও অভিনেত্রী পূজা চেরি।
রেকর্ডিং শেষে তাদের অভিনয়েরও প্রশংসা করেন সাবিনা ইয়াসমিন এবং পুরো টিমের প্রতি শুভকামনা জানান।
চলচ্চিত্রটির নির্মাতা রেদওয়ান রনি বলেন, ‘দম’ মূলত সাধারণ মানুষের সংগ্রাম ও আবেগের গল্প।
তাই চলচ্চিত্রে এমন একটি গান রাখা প্রয়োজন ছিল, যা দর্শকের হৃদয়ের গভীরে পৌঁছাতে পারে। তার ভাষায়, ‘এই মন তোমাকে দিলাম’ এখন আর শুধু একটি গান নয়; এটি একটি জাতির স্মৃতি, ভালোবাসা ও আবেগের অংশ।
নির্মাতারা জানান, প্রয়াত গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ারের সন্তান সরফরাজ আনোয়ার উপল ও দিঠি আনোয়ারের অনুমতিতেই গানটি নতুন করে চলচ্চিত্রে ব্যবহার করা হয়েছে। রেকর্ডিংয়ের সময় তারাও উপস্থিত ছিলেন এবং পুরো আয়োজনকে স্বাগত জানিয়েছেন।
প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এসভিএফ আলফা আই এন্টারটেইনমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার শাকিল জানান, সিনেমার একটি রোমান্টিক গানের পরিকল্পনা করতে গিয়ে তাদের মাথায় এই কালজয়ী গানটি ব্যবহারের ধারণা আসে। তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল সাবিনা ইয়াসমিনকে আবারও গানটি গাওয়াতে রাজি করানো। শেষ পর্যন্ত সেটি সম্ভব হওয়ায় পুরো দল আনন্দিত।
গানটি আবারও সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠে শোনার অভিজ্ঞতাকে বিশেষ বলে উল্লেখ করেছেন দিঠি আনোয়ার। তার মতে, দীর্ঘ সময় পরেও কিংবদন্তি এই শিল্পীর কণ্ঠে গানটি শুনলে যেন সেই পুরনো আবহই ফিরে আসে।
সংগীত পরিচালক আরাফাত মহসীন নিধির ভাষায়, কালজয়ী একটি গানের অংশ নিয়ে নতুন সংগীত তৈরি করা সহজ কাজ নয়। তবে সাবিনা ইয়াসমিন যখন গানটি পছন্দ করেছেন বলে জানিয়েছেন, সেটিই তার জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
অন্যদিকে তরুণ শিল্পী মোমিন বিশ্বাসের কাছে কিংবদন্তি এই শিল্পীর সঙ্গে গান গাওয়ার অভিজ্ঞতা স্বপ্নপূরণের মতো বলেই মনে হয়েছে।






