পানিতে ডুবছে আলুর ক্ষেত: লোকসানের আশঙ্কায় কৃষক

ক্ষেত ডুবে নষ্টের শঙ্কা, উৎপাদন খরচের নিচে বাজারদর—লোকসানের আশঙ্কায় কৃষক!
রংপুর প্রতিনিধি: শুক্রবার (১৩ মার্চ) রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় অসময়ে হওয়া ভারী বর্ষণে আলুর বিস্তীর্ণ ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের আলু চাষিরা বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কায় পড়েছেন।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টানা বৃষ্টির কারণে অনেক জমিতে পানি জমে আলুর গাছ নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কৃষকেরা আশঙ্কা করছেন, জমিতে যদি দুই থেকে তিন দিন পানি জমে থাকে, তবে আলু পচে যেতে পারে।
উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের রহিমাপুর চাকলা গ্রামের আলু চাষি তাপস রায় বলেন, “এবার এক একরের বেশি জমিতে আলু চাষ করেছি। হঠাৎ বৃষ্টিতে জমি ডুবে গেছে। যদি দুই–তিন দিন পানি থাকে, তাহলে আলু পচে যাবে।”
আলমপুর ইউনিয়নের কৃষকেরা জানান, গত বছর আলুর দাম কম থাকায় বড় ধরনের লোকসান হয়েছিল। চলতি মৌসুমে ফলন তুলনামূলক ভালো হলেও বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭ থেকে ৮ টাকায়, যা উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় অনেক কম।
ইকচালির চরকডাঙ্গা গ্রামের কৃষক লাল মিয়া বলেন, “প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ পড়ছে প্রায় ১৪ থেকে ১৬ টাকা। কিন্তু বাজারে দাম পাওয়া যাচ্ছে অর্ধেকেরও কম। এতে লোকসান ছাড়া আর কিছুই নেই।”
উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, গত বছর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে মোট ৪ হাজার ৫৩০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছিল। এতে উৎপাদন হয়েছিল প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৫ মেট্রিক টন আলু। কিন্তু উপজেলার হিমাগারগুলোর মোট ধারণক্ষমতা মাত্র ১৬ হাজার টন হওয়ায় বিপুল পরিমাণ আলু সংরক্ষণের বাইরে থেকে যায় এবং কৃষকদের কম দামে বিক্রি করতে হয়।
চলতি মৌসুমে আবাদ কিছুটা কমে ৩ হাজার ৪৬৩ হেক্টরে নেমে এলেও বাজারদর উৎপাদন ব্যয়ের নিচে থাকায় কৃষকেরা নতুন করে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
আলমপুর ইউনিয়নের কৃষক মিলন মিয়া বলেন, “বারবার লোকসান খেতে খেতে অনেক কৃষক আলুর আবাদ ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন।”
সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক ক্ষেতেই আলুর গাছ পানিতে তলিয়ে আছে। জমিতে পানি জমে থাকায় অনেক কৃষক ক্ষেত থেকে আলু তোলার ব্যাপারেও অনীহা প্রকাশ করছেন।
নারাঞ্জন গ্রামের কৃষক মুকুল কবির বলেন, “এবার তিন বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছি। হঠাৎ বৃষ্টিতে জমি ডুবে গেছে। জমে থাকা পানি কীভাবে বের করবো, সেটাই এখন বড় চিন্তা। যদি দুই–তিন দিন পানি থাকে, তাহলে আলু পচে যাবে।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীবা রানী রায় বলেন, হিমাগারের ধারণক্ষমতা বাড়ানো এবং আলুভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত খাদ্যশিল্প গড়ে তোলা গেলে কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পেতে পারেন। অন্যথায় প্রতিবছরই কৃষকদের একই ধরনের সংকটের মুখে পড়তে হবে।
এ অবস্থায় কৃষকেরা আলুর ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণ, সরকারি সরাসরি ক্রয়ব্যবস্থা চালু এবং হিমাগারের ধারণক্ষমতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অনেক কৃষক ভবিষ্যতে আলুর আবাদ ছেড়ে দিতে বাধ্য হবেন।





