জাকাত: সম্পদের পবিত্রতা ও বরকতের পথ

ইসলামের বাধ্যতামূলক ইবাদত জাকাত—সমাজে ন্যায্য বণ্টন, আত্মার শুদ্ধতা ও সম্পদের প্রকৃত কল্যাণ নিশ্চিত করে।
টুইট ডেস্ক :ইসলামে জাকাত কেবল দান নয়; এটি মুসলমানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। জাকাতের মাধ্যমে সম্পদ যেমন পবিত্র হয়, তেমনি সমাজে ন্যায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক ভারসাম্যও প্রতিষ্ঠিত হয়। ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, জাকাত মানুষের সম্পদকে বরকতময় করে এবং ব্যক্তিকে আত্মিকভাবে পরিশুদ্ধ করে।
আরবি ‘জাকাত’ শব্দের অর্থ বৃদ্ধি পাওয়া এবং পবিত্র হওয়া। ভাষাবিদদের মতে, যে সম্পদ আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী ব্যয় করা হয়, তা বরকত লাভ করে এবং ক্রমশ কল্যাণময় হয়ে ওঠে। ফসল যেমন আবর্জনামুক্ত ও পরিচ্ছন্ন হলে ভালো ফলন দেয়, তেমনি সম্পদও জাকাতের মাধ্যমে শুদ্ধ ও কল্যাণময় হয়।
প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ ইমাম নববী (রহ.) বলেন, মানুষের ধন-সম্পদ থেকে আল্লাহ নির্ধারিত অংশ বের করে দেওয়ার নামই জাকাত। এর ফলে সম্পদে বরকত আসে এবং জাকাতদাতা নানা বিপদ-আপদ থেকে সুরক্ষা লাভ করেন। সুফি মনীষীরাও মনে করেন, জাকাত মানুষকে দুনিয়া ও আখেরাত—উভয় জীবনের বিপদ থেকে রক্ষা করে।
ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেন, জাকাত প্রদান করলে মানুষের আত্মা পবিত্র হয়। আর আত্মা পবিত্র হলে আল্লাহ সেই ব্যক্তির সম্পদে বরকত দান করেন। ইসলামি চিন্তাবিদ ইউসুফ আল-কারযাভির মতে, জাকাতের প্রভাব কেবল অর্থনৈতিক নয়; এটি মানুষের মন-মানসিকতা ও সামাজিক আচরণকেও উন্নত করে।
পবিত্র কোরআনে জাকাতকে অনেক ক্ষেত্রে ‘সদকা’ নামেও উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা সূরা তাওবাহর ৬০ নম্বর আয়াতে বলেছেন, সদকা মূলত ফকির-মিসকিন, জাকাত আদায়ে নিয়োজিত কর্মী, মন জয় করার প্রয়োজন এমন ব্যক্তি, দাসমুক্তি, ঋণগ্রস্তদের সহায়তা, আল্লাহর পথে ব্যয় এবং মুসাফিরদের সাহায্যের জন্য নির্ধারিত।
ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী জাকাত ফরজ হওয়ার জন্য কয়েকটি শর্ত রয়েছে। একজন মুসলমানকে সুস্থ মস্তিষ্কের, স্বাধীন এবং প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে। এছাড়া তার কাছে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ থাকতে হবে এবং সেই সম্পদ পূর্ণ এক বছর তার মালিকানায় থাকতে হবে।
জাকাতের নিসাব নির্ধারণ করা হয়েছে স্বর্ণ ও রুপার ভিত্তিতে। স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত ভরি এবং রুপার ক্ষেত্রে প্রায় সাড়ে বায়ান্ন তোলা সমপরিমাণ সম্পদ থাকলে জাকাত ফরজ হয়। যদি কারো কাছে স্বর্ণ, রুপা, নগদ অর্থ বা বাণিজ্যিক সম্পদ পৃথকভাবে নিসাব পরিমাণ না হলেও একত্রে সেই পরিমাণে পৌঁছে যায়, তাহলেও জাকাত আদায় করতে হবে।
ইসলামী অর্থনীতিতে জাকাতকে দারিদ্র্য দূরীকরণ ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিকভাবে জাকাত আদায় ও বণ্টন নিশ্চিত হলে সমাজে সম্পদের সুষম বণ্টন এবং দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নত করা। ছবি






