ইরাকে মার্কিন বিমান বিধ্বস্ত

আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী সামরিক বিমান দুর্ঘটনা; উদ্ধার অভিযান চলছে, তদন্ত শুরু।
টুইট ডেস্ক: ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত চারজন ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড (সেন্টকম) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সেন্টকম জানিয়েছে, ছয় সদস্যের ক্রু নিয়ে পরিচালিত কেসি–১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার বিমানটি বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেল প্রায় দুইটার দিকে একটি সামরিক অভিযানের সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয় এবং এখনো অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
প্রাথমিকভাবে সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানটি ভূপাতিত হওয়ার পেছনে শত্রুপক্ষের হামলা কিংবা বন্ধুত্বপূর্ণ বাহিনীর গুলির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। নিহতদের পরিচয় আপাতত গোপন রাখা হয়েছে, যাতে প্রথমে তাদের স্বজনদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো যায়।
মার্কিন যৌথ বাহিনীর চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বিমানটি যুদ্ধকালীন একটি অভিযানে অংশ নেওয়ার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়। তিনি বলেন, “এটি এখনো সক্রিয় উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার অভিযান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।”
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ নিহত ক্রু সদস্যদের ‘আমেরিকান বীর’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, তাদের আত্মত্যাগ চলমান সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করবে।
মার্কিন সামরিক কমান্ডের সর্বশেষ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে পশ্চিম ইরাকের আকাশে দুটি কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার বিমান জড়িত একটি ঘটনায় একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়। প্রথমে চারজন ক্রু সদস্যের মৃত্যু নিশ্চিত করা হলেও নিখোঁজ থাকা বাকি দুজনেরও মৃত্যু হয়েছে বলে পরে নিশ্চিত করা হয়।
জানা গেছে, এই ধরনের কেসি ১৩৫ বিমান যুদ্ধবিমানকে আকাশে থেকেই জ্বালানি সরবরাহ করতে সক্ষম। ফলে যুদ্ধবিমানগুলো দীর্ঘ সময় আকাশে থেকে দূরপাল্লার অভিযান পরিচালনা করতে পারে।
ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুক্তরাষ্ট্র,ইসরায়েল সামরিক সংঘাতের মধ্যেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। গত দুই সপ্তাহে এই সংঘাতে মার্কিন বাহিনীর মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ জনে। একই সময়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী অন্তত চারটি বিমান হারিয়েছে বলেও জানা গেছে।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে কুয়েতের আকাশে বন্ধুত্বপূর্ণ আগুনের ঘটনায় তিনটি এফ–১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়, যদিও সে সময় সব ক্রু নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।
এদিকে একই দিনে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন করে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।






