রমজানের শেষ ডাক

আল্লাহকে রাজিখুশি করার সাধনায় আত্মসমালোচনার আহ্বান।

টুইট প্রতিবেদক: রমজান মাসের শেষ প্রান্তে এসে আত্মসমালোচনার সময় উপস্থিত হয়েছে মুসলমানদের সামনে। রহমত ও মাগফিরাতের পর নাজাতের শেষ দশকে দাঁড়িয়ে প্রতিটি মুমিনকে ফিরে তাকাতে হচ্ছে, এই পবিত্র মাসে তার অর্জন কতটুকু, আর কত সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেছে।

ইসলামি শিক্ষায় রমজানকে বলা হয় আত্মশুদ্ধি ও ক্ষমা লাভের মাস। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, এ মাসে একটি ফরজ ইবাদতের সওয়াব অন্য মাসের সত্তরটি ফরজের সমান হয়ে যায়। আবার একটি নফল ইবাদতও ফরজের সওয়াবের মর্যাদা লাভ করে। তাই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এমন সুবর্ণ সুযোগ অন্য কোনো মাসে পাওয়া যায় না।

ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, যদি একজন মুসলমান রমজানের এত বড় সুযোগ পেয়েও আত্মশুদ্ধির পথে এগোতে না পারেন, বরং পাপের পথে আরও বেশি জড়িয়ে পড়েন,তাহলে তা জীবনের বড় দুর্ভাগ্য।

ইসলামের ইতিহাসে বর্ণিত একটি হাদিসে দেখা যায়, একদিন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) মিম্বরের সিঁড়িতে উঠতে উঠতে তিনবার ‘আমিন’ বলেন। পরে সাহাবিরা জানতে চাইলে তিনি জানান, ফেরেশতা জিবরাইল তিন শ্রেণির মানুষের জন্য ধ্বংসের দোয়া করেছেন,যারা বাবা-মাকে পেয়েও জান্নাত অর্জন করতে পারে না, যারা নবীর নাম শুনেও দরুদ পড়ে না এবং যারা রমজান পেয়েও নিজেদের গোনাহ মাফ করাতে ব্যর্থ হয়।

মানুষ সাধারণত দুনিয়াবি ক্ষতির বেদনা খুব গভীরভাবে অনুভব করে। অর্থ হারানো, ব্যবসায় লোকসান, প্রিয়জনের মৃত্যু কিংবা সামাজিক মর্যাদা হারানোর শোক অনেক সময় মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করে দেয়।

কিন্তু আখেরাতের দৃষ্টিকোণ থেকে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো সেই সময়গুলো হারানো, যখন মানুষ চাইলেই নিজের পরকালকে সুন্দর করে নিতে পারত।

ধর্মীয় পণ্ডিতরা বলেন, সুযোগ অনেকটা তীরের মতো,একবার ধনুক থেকে ছুটে গেলে আর ফিরে আসে না। তেমনি রমজানের দিনগুলোও একবার চলে গেলে তা আর ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। তাই শেষ দশকের প্রতিটি মুহূর্তকে ইবাদত, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সাধনায় কাজে লাগানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রমজানের শেষ সময়টি শুধু আনুষ্ঠানিক ইবাদতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং আত্মসমালোচনা, তওবা এবং জীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করার নতুন সংকল্প গ্রহণেরও উপযুক্ত সময়।

কারণ দুনিয়ার অনেক ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব হলেও হারিয়ে যাওয়া সময় আর ফিরে আসে না।রমজানের শেষ প্রহরে তাই মুমিনদের প্রতি আহ্বান,অবহেলা ঝেড়ে ফেলে নতুন উদ্যমে ইবাদতের পথে ফিরে আসা, শয়তানের প্রলোভন থেকে দূরে থাকা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিকে জীবনের মূল লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা।

ধর্মবিশারদদের ভাষায়, এ সুযোগ যদি হারিয়ে যায়, তবে আফসোস ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।