প্রোস্টেট ক্যান্সার চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত

ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসা, লক্ষ্যভিত্তিক রেডিওথেরাপি ও নতুন প্রতিরোধ চিকিৎসায় আশাবাদ!।

টুইট ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে পুরুষদের অন্যতম সাধারণ ক্যান্সার হিসেবে পরিচিত প্রোস্টেট ক্যান্সারের চিকিৎসা পদ্ধতিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালে এসে রোগের স্তর, রক্তে পিএসএ মাত্রা, গ্লিসন মান এবং জিনগত পরিবর্তনের তথ্য বিশ্লেষণ করে রোগীভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগের প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে।

আন্তর্জাতিক ক্যান্সার চিকিৎসা নির্দেশিকা প্রণয়নকারী সংস্থাগুলোর সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী এখন প্রোস্টেট ক্যান্সারের চিকিৎসা প্রধানত রোগের স্তরভেদে নির্ধারণ করা হচ্ছে।

প্রাথমিক পর্যায়ে নজরদারি ও সীমিত চিকিৎসা

প্রোস্টেট ক্যান্সার যদি প্রাথমিক পর্যায়ে এবং ঝুঁকি কম থাকে, অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি অস্ত্রোপচার না করে সক্রিয় নজরদারি পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। এ ক্ষেত্রে নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা, চৌম্বক অনুনাদ চিত্রায়ণ এবং কোষ পরীক্ষা করে রোগের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হয়।

তবে প্রয়োজন হলে প্রোস্টেট অপসারণ অস্ত্রোপচার অথবা বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ বিকিরণ চিকিৎসা দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্রভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতি—যেমন উচ্চতীব্রতা অতিস্বনক বা শীতলীকরণ চিকিৎসা—ব্যবহারের মাধ্যমে ক্যান্সার আক্রান্ত অংশ ধ্বংস করার প্রযুক্তিও ব্যবহৃত হচ্ছে।

মধ্যম ও উচ্চ ঝুঁকিতে সমন্বিত চিকিৎসা

রোগ যদি মধ্যম বা উচ্চ ঝুঁকির পর্যায়ে থাকে, তখন সাধারণত হরমোন নিয়ন্ত্রণ চিকিৎসা ও বিকিরণ চিকিৎসা একসঙ্গে দেওয়া হয়। কিছু ক্ষেত্রে এর সঙ্গে কেমোথেরাপিও যুক্ত করা হয়।

নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, একাধিক চিকিৎসা একত্রে প্রয়োগ—যাকে ত্রিস্তর চিকিৎসা পদ্ধতি বলা হয়—রোগ নিয়ন্ত্রণে বেশি কার্যকর হতে পারে। এতে হরমোন চিকিৎসা, কেমোথেরাপি এবং লক্ষ্যভিত্তিক বিকিরণ একত্রে ব্যবহৃত হয়।

অগ্রসর পর্যায়ে লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসা

রোগ শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়লে চিকিৎসা আরও জটিল হয়ে ওঠে। এ পর্যায়ে হরমোন নিয়ন্ত্রণ চিকিৎসার পাশাপাশি নতুন ধরনের লক্ষ্যভিত্তিক ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিশেষ করে জিনগত পরিবর্তন থাকলে পার্প অবরোধকারী ওষুধ ব্যবহার করা হয়, যা ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি প্রতিরোধে সহায়তা করে।

এ ছাড়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রোস্টেট নির্দিষ্ট ঝিল্লি লক্ষ্যভিত্তিক রেডিওলিগ্যান্ড চিকিৎসা উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। এই পদ্ধতিতে ক্যান্সার কোষ শনাক্ত করে সরাসরি তেজস্ক্রিয় ওষুধ প্রয়োগ করা হয়।

নতুন প্রতিরোধ চিকিৎসায় আশাবাদ

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে গবেষণায় থাকা নতুন প্রতিরোধভিত্তিক চিকিৎসাগুলো ভবিষ্যতে প্রোস্টেট ক্যান্সারের চিকিৎসায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় পরীক্ষামূলক প্রতিরোধ চিকিৎসা ব্যবহারে অনেক রোগীর ক্ষেত্রে রক্তে ক্যান্সার সূচক উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

গবেষকেরা বলছেন, প্রোস্টেট ক্যান্সারে প্রতিরোধ চিকিৎসা অতীতে তুলনামূলক কম কার্যকর ছিল। তবে নতুন প্রযুক্তির ফলে এই ক্ষেত্রেও আশাব্যঞ্জক ফল মিলছে।

দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণে আশার আলো

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির কারণে অনেক ক্ষেত্রে প্রোস্টেট ক্যান্সার এখন দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণযোগ্য রোগে পরিণত হয়েছে।

উন্নত চিকিৎসা, জিনগত পরীক্ষা এবং লক্ষ্যভিত্তিক ওষুধ ব্যবহারের ফলে রোগীদের পাঁচ বছরের বেঁচে থাকার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।