বিশ্বকাপে ইরান সংকট, কী করবে ফিফা?

সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পরবর্তী বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান।

টুইট প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রভাব এবার ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আসর বিশ্বকাপেও পড়তে পারে। আধুনিক যুগে প্রথমবারের মতো কোনো দল বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘটনা ঘটতে পারে।

সম্ভাব্য এই পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প পরিকল্পনা নিয়েও ভাবতে শুরু করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। বুধবার ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমদ দোনিয়ামালি এক বিবৃতিতে জানান, যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত কোনো বিশ্বকাপে ইরানের অংশ নেওয়া সম্ভব নয়। তার এই বক্তব্য থেকেই প্রথমবারের মতো স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়, দেশটি সত্যিই টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়াতে পারে।

ইরানের এই অবস্থানের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক এক সংঘাত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি। ওই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র, যা বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ, সেখানে গিয়ে খেলা ইরানের পক্ষে সম্ভব নয় বলে মনে করছে তেহরান।

তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়নি ইরান। কয়েক ঘণ্টা আগেও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশ্বাস দিয়েছেন—ইরান দলকে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত জানানো হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিশ্বকাপে ইরানের প্রথম ম্যাচ হওয়ার কথা ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইরান সরে দাঁড়ালে বড় ধরনের জটিলতায় পড়তে পারে ফিফা।

ফিফার সামনে কী বিকল্প?

বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টের নীতিমালার ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো দল সরে দাঁড়ালে ফিফা চাইলে অন্য যেকোনো দেশকে সেই জায়গায় আমন্ত্রণ জানাতে পারে। এমনকি একই মহাদেশ থেকে দল নেওয়াও বাধ্যতামূলক নয়।

ফিফার সাবেক ফুটবল রেগুলেটরি পরিচালক জেমস কিচিং বলেন, আধুনিক যুগে এমন ঘটনার কোনো নজির নেই। ফলে কোনো দল সরে গেলে পরিস্থিতি সামাল দিতে ফিফার হাতে পূর্ণ স্বাধীনতা থাকবে। তবে বর্তমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরান সরে দাঁড়ালে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা কম বলেও মনে করছেন তিনি।

সম্ভাব্য বিকল্প দল?

গত বছর এশিয়ান বাছাইপর্বে গ্রুপ ‘এ’ চ্যাম্পিয়ন হয়ে টানা চতুর্থবার বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করে ইরান। তাই তাদের পরিবর্তে এশিয়া থেকেই কোনো দল নেওয়া সবচেয়ে যৌক্তিক বলে মনে করা হচ্ছে। সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে আলোচনায় এসেছে ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাম।

ইরাক এই মাসেই মেক্সিকোতে আন্তমহাদেশীয় প্লে-অফ খেলবে। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হতে পারে বলিভিয়া অথবা সুরিনাম। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে ভ্রমণ জটিলতায় ইরাকের প্রস্তুতিও কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে।

ইরাকের কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড প্রস্তাব দিয়েছেন, প্লে-অফ ম্যাচটি বিশ্বকাপের কাছাকাছি সময়ে আয়োজন করা হোক। এতে একদিকে ইরাক প্রস্তুতির বাড়তি সময় পাবে, অন্যদিকে ইরান পরিস্থিতি পরিষ্কার হওয়ার জন্য ফিফাও কিছুটা সময় পাবে।

সিদ্ধান্তে দেরি হতে পারে?

এদিকে বিষয়টি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি ফিফা। তবে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ফিফার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ইউরোপের বাকি বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব শেষ হওয়ার পর, সম্ভবত এপ্রিলের শুরুতেই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে ফিফা।