খামেনির মৃত্যুতে সংসদে শোকপ্রস্তাব

ত্রয়োদশ সংসদে সর্বসম্মতিতে গৃহীত
টুইট ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা ও শিয়া মুসলিম ধর্মগুরু আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী হোসেইনী খামেনির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এ সংক্রান্ত শোকপ্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
শোকপ্রস্তাবে শ্রদ্ধা
অধিবেশনের শুরুতেই খামেনির কর্মময় জীবন ও রাজনৈতিক সংগ্রামের ওপর ভিত্তি করে একটি বিস্তারিত শোকপ্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। প্রস্তাবে বলা হয়, তার মৃত্যুতে বিশ্ব একজন মহান নেতা, বিচক্ষণ ব্যক্তিত্ব ও প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতাকে হারিয়েছে। সংসদের পক্ষ থেকে তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়।
জীবন ও রাজনৈতিক পথচলা
শোকপ্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, ১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল ইরানের মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন আলী খামেনি। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ৮৬ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে ইরানে সাত দিনের সরকারি ছুটি ও ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়।
শিক্ষাজীবনে মাশহাদের ইসলামী বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে তিনি নাজাফ ও কোমের উচ্চতর শিক্ষা কেন্দ্রে ধর্মতাত্ত্বিক পড়াশোনা করেন। সেখানে তিনি আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির সান্নিধ্যে আসেন এবং শাহ শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে জড়িয়ে একাধিকবার কারাবরণ করেন।
ইসলামী বিপ্লবের পর ভূমিকা
১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর ইরানের রাষ্ট্রীয় কাঠামো গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন খামেনি। ১৯৮০ সালে তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এবং ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করেন।
১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন এবং তার নেতৃত্বে আইআরজিসি একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পাঠানো হবে
সংসদীয় রেওয়াজ অনুযায়ী, গৃহীত শোকপ্রস্তাবটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভাষান্তর করে ইরানের প্রয়াত নেতার শোকসন্তপ্ত পরিবারের কাছে পাঠানো হবে।






