হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগে দায়বদ্ধ সংসদ: প্রধানমন্ত্রী

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে তারেক রহমানের বক্তব্য

টুইট ডেস্ক: দীর্ঘ দেড় দশকের দুঃশাসন ও ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ দেশ একটি দায়বদ্ধ সংসদ পেয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন থেকে জাতীয় সংসদ হবে দেশের সব যুক্তি-তর্ক ও জাতীয় সমস্যা সমাধানের মূল কেন্দ্রবিন্দু।

শহীদদের স্মরণ

বক্তৃতার শুরুতেই ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদদের গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের নির্মমতার শিকার অসংখ্য মানুষের কান্না আর হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ আমরা একটি দায়বদ্ধ সংসদ পেয়েছি। গুম, খুন ও আয়নাঘরের মতো নির্যাতনের শিকার মানুষের সাহসিকতার ফলেই দেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে।

খালেদা জিয়াকে স্মরণ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রদূত উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন। কিন্তু বিগত শাসনামলে সেই সংসদকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছিল। তিনি আপসহীনভাবে লড়াই করেছেন, কিন্তু এই শুভ মুহূর্তটি দেখে যেতে পারেননি।

জনগণের স্বার্থই বড়

এ সময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উক্তি উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জনগণই যদি রাজনৈতিক দল হয়, তবে আমি সেই দলেই আছি।” ব্যক্তি বা দলের চেয়ে জনগণের স্বার্থই বড়—এটাই বিএনপির মূল দর্শন।

তিনি বলেন, আমি দলীয়ভাবে নির্বাচিত হলেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এই সংসদে সমগ্র দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি। আমাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু একটি সার্বভৌম, নিরাপদ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রশ্নে কোনো বিরোধ থাকতে পারে না।

সংসদের বিশেষ পরিস্থিতি

বর্তমান সংসদের বিশেষ পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট জনরোষে সাবেক স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারদের কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি তারা কেউ কারাগারে, কেউ পলাতক।

এ অবস্থায় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী প্রবীণ রাজনীতিবিদ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম সভাপতির দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তাব করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ১৯৭৩ সালের উদাহরণ টেনে বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানও প্রথম সংসদ অধিবেশনে মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশের নাম প্রস্তাব করেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের এই নজিরবিহীন প্রেক্ষাপটে প্রবীণ সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে সংসদের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।