ছুটির দিনেও খোলা থাকবে জ্বালানি ডিপো

সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নতুন সিদ্ধান্ত; বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও বাজার স্থিতিশীল রাখার উদ্যোগ।

টুইট ডেস্ক: দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখতে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জারি করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিপিসি জানায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে সরকারি ছুটির দিনেও বিপণন কোম্পানিগুলোর প্রধান স্থাপনা বা ডিপো খোলা রাখা হবে। বিশেষ করে শুক্রবার ও শনিবারও এসব স্থাপনা থেকে তেল উত্তোলন ও বিতরণ কার্যক্রম চালু থাকবে।

বিপিসির সচিব শাহিনা সুলতানা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিদেশ থেকে জ্বালানি তেলের আমদানি পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অব্যাহত রয়েছে এবং নিয়মিত চালান দেশে পৌঁছাচ্ছে। ডিপো থেকে রেলওয়াগন ও ট্যাংকারের মাধ্যমে সারাদেশে ডিলারদের কাছে সরবরাহও চলমান আছে।

সংস্থাটি জানায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহে কোনো ঘাটতি তৈরি না হয় এবং বাজারে অযথা আতঙ্ক ছড়িয়ে না পড়ে—সেই লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিপিসি জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় আরও কয়েকটি নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফিলিং স্টেশনে সরবরাহের পরিমাণ সাময়িকভাবে সীমিত করা, রাইড ভাগাভাগি সেবায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের জন্য দৈনিক সর্বোচ্চ পাঁচ লিটার জ্বালানি নির্ধারণ এবং বিভাগীয় শহরগুলোতে অকটেন ও পেট্রোল সরবরাহের হার কিছুটা বাড়ানো।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা, বিশেষ করে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে চলমান পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এ অবস্থায় আগাম সরবরাহ ব্যবস্থাপনা জোরদার করা সরকারের একটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ।

বিপিসি জনগণকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে জ্বালানি মজুত না করার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, চাহিদা অনুযায়ী নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত রাখতে প্রশাসন ও বিপণন কোম্পানিগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।