আটকে আছে ‘লেব্রেথাহ’: ইরানের আশ্বাস বাস্তবায়নে মনিটরিং প্রয়োজন

৬২ হাজার টন এলএনজি বহনকারী ‘লেব্রেথাহ’সহ একাধিক ট্যাঙ্কার পারস্য উপসাগরে অপেক্ষমাণ; জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা।
টুইট ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশগামী জ্বালানি জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিক হয়নি। ইরান বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করলেও বাস্তবে এখনো কোনো জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেনি বলে সামুদ্রিক তথ্যভাণ্ডারগুলোতে দেখা যাচ্ছে।
বাংলাদেশের জ্বালানি উপদেষ্টা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সঙ্গে ঢাকায় ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রহিমি জাহানাবাদীর সাম্প্রতিক বৈঠকে তেহরান আশ্বাস দেয়—বাংলাদেশের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী জাহাজগুলো আগাম নোটিফিকেশন দিলে নিরাপদে হরমুজ প্রণালি পার হতে পারবে। দেশের কয়েকটি গণমাধ্যম এই আশ্বাসকে স্বস্তির খবর হিসেবে প্রকাশ করলেও বাস্তব পরিস্থিতিতে এখনো দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।
সামুদ্রিক জাহাজ পর্যবেক্ষণ তথ্যভাণ্ডার অনুযায়ী, বাংলাদেশগামী তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী জাহাজ লেব্রেথাহ কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে প্রায় এক সপ্তাহ আগে গ্যাস বোঝাই করে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত উপকূলের কাছে নোঙর করে আছে। প্রায় ৬২ হাজার টন এলএনজি বহনকারী এই জাহাজটির গন্তব্য চট্টগ্রাম বন্দর। সর্বশেষ অবস্থান বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, জাহাজটি এখনো হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হয়নি, বরং কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখেই অবস্থান করছে।
এ ছাড়া অপরিশোধিত তেলবাহী আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ নর্ডিক পোলেক্স হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জলসীমায় অপেক্ষমাণ রয়েছে। জাহাজটি দ্রুত পারাপারের জন্য বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিকভাবে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বর্তমানে পারস্য উপসাগর অঞ্চলে শতাধিক তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাঙ্কার বিভিন্ন স্থানে নোঙর করে অপেক্ষা করছে। যদিও ইরান দাবি করছে যে নিষেধাজ্ঞা মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর ওপর আরোপ করা হয়েছে, তবু নিরাপত্তা ঝুঁকি ও সামরিক উত্তেজনার কারণে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কার্যত ধীরগতিতে রয়েছে।
তবে পরিস্থিতির মধ্যে একটি ইতিবাচক দিকও রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করা কয়েকটি জ্বালানি জাহাজ ইতিমধ্যে বাংলাদেশে পৌঁছেছে বা পথে রয়েছে। এর মধ্যে চারটি এলএনজি ও দুটি এলপিজি জাহাজ মিলিয়ে প্রায় দুই লাখ সাতচল্লিশ হাজার টন জ্বালানি দেশে সরবরাহের প্রক্রিয়ায় রয়েছে, যা স্বল্পমেয়াদে জ্বালানি সরবরাহে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে।
এদিকে সরকার কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি বিকল্প বাজার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস কেনা এবং জ্বালানির সাশ্রয়ী ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে। জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্যবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
সব মিলিয়ে ইরানের দেওয়া আশ্বাস কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তব পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। বাংলাদেশগামী জ্বালানি জাহাজগুলোর চলাচল স্বাভাবিক হতে হলে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি জরুরি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।






