লেবাননে একদিনে এক লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত

লেবাননে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় এক লাখের বেশি মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে যাচ্ছে; হিজবুল্লাহ–ইসরায়েল সংঘর্ষ তীব্র।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাত এখন দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে।

সর্বশেষ পরিস্থিতিতে হামলা-পাল্টা হামলা, অবকাঠামো ধ্বংস এবং ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

আল জাজিরা ইংরেজির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটির বিশেষজ্ঞ পরিষদ তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করেছে বলে ইরানি সূত্র জানিয়েছে।

ইরানের পার্লামেন্টের স্বাস্থ্য কমিটির সদস্য মোহাম্মদ জামালিয়ান দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় অন্তত নয়টি হাসপাতাল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। হামলায় চিকিৎসা অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চিকিৎসা সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

অন্যদিকে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার এক প্রতিনিধি জানিয়েছেন, লেবাননে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় এক লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ইসরায়েলের বিমান হামলা এবং হিজবুল্লাহর পাল্টা আক্রমণের কারণে সীমান্ত অঞ্চলে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে আরব উপসাগরীয় অঞ্চলেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ব্রিটিশ সামুদ্রিক বাণিজ্য সংস্থা জানায়, আবুধাবির উত্তরে প্রায় ৩৬ নটিক্যাল মাইল দূরে একটি জাহাজের কাছে বিস্ফোরণসদৃশ ঘটনা ঘটেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লেয়েনের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনায় না যাওয়ার অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেছে।

সংঘাতে হতাহতের সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে। ইরানি সূত্রের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত এক হাজার দুইশ থেকে এক হাজার তিনশর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। অপরদিকে ইসরায়েলও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় হতাহতের ঘটনা স্বীকার করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ কেবল ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং লেবানন, উপসাগরীয় অঞ্চল এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথেও এর প্রভাব পড়ছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে।