শেয়ার বিক্রি করে দ্রুত অর্থ ফেরত, এলো বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নিয়ম

শেয়ার হস্তান্তর ও মূলধন প্রত্যাবাসন সহজ, ৪৫ দিনের মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পন্নের নির্দেশনা

টুইট প্রতিবেদন: অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে বিদেশি (অ-নিবাসী) বিনিয়োগকারীদের শেয়ার হস্তান্তর ও বিক্রয়লব্ধ অর্থ প্রত্যাবাসন সহজ করতে নতুন মাস্টার সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

৮ মার্চ জারি করা ইআইডি সার্কুলার নং–০১ এর মাধ্যমে ২০১৮ ও ২০২০ সালের পূর্ববর্তী নির্দেশনাগুলো সমন্বয় ও হালনাগাদ করা হয়েছে।

নতুন নির্দেশনায় বিনিয়োগকারীদের প্রস্থান প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ, দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এখন সহজে শেয়ার হস্তান্তর করতে পারবেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিক্রয়লব্ধ অর্থ দেশে ফেরত নিতে পারবেন।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিআইডিএ) এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। সংস্থাটির এক্সিকিউটিভ মেম্বার নাহিয়ান রহমান রোচির নেতৃত্বে গঠিত একটি যৌথ কমিটি ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে এ বিষয়ে সুপারিশ জমা দেয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে এবং দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।

নতুন মাস্টার সার্কুলারে বলা হয়েছে, ১ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের ক্ষেত্রে স্বাধীন মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রয়োজন হবে না; ক্রেতা ও বিক্রেতার যৌথ ঘোষণাপত্রই যথেষ্ট হবে। আবার ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের ক্ষেত্রে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংক স্বাধীন মূল্যায়ন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবে; এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদনের প্রয়োজন হবে না।

এ ছাড়া নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীর ভিত্তিতে নিট অ্যাসেট ভ্যালু (এনএভি) সমান বা তার কম মূল্যের লেনদেনে এডি ব্যাংক সরাসরি অর্থ প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করতে পারবে। সম্পূর্ণ কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর শেয়ার হস্তান্তরের প্রক্রিয়া ৪৫ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে এবং কোনো অসঙ্গতি না থাকলে বিক্রয়লব্ধ অর্থ ৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রত্যাবাসন করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, মূল্যায়ন, কাগজপত্র ও প্রতিবেদন প্রক্রিয়া সরলীকরণের মাধ্যমে এডি ব্যাংকগুলোর ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে।

বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে আশিক চৌধুরী বলেন, “বিদেশি বিনিয়োগের জন্য আদর্শ পরিবেশ তখনই তৈরি হয়, যখন বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগের পুরো চক্রজুড়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগোতে পারেন। অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তা কমানো, বিক্রয়লব্ধ অর্থ দ্রুত প্রত্যাবাসনের সুযোগ, মূল্যায়ন ও কাগজপত্রের প্রক্রিয়া সহজ করা এবং বিনিয়োগ থেকে বের হওয়ার পথ আরও পূর্বানুমানযোগ্য করার মাধ্যমে বাংলাদেশ সেই দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে।”

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সংস্কারের ফলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ মানদণ্ডের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বিনিয়োগকারীরা এখন আরও সহজে ও দ্রুত তাদের মূলধন ও মুনাফা প্রত্যাবাসন করতে পারবেন, যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করতে সহায়ক হবে।