রংপুরে ভেজাল চিপস ও কোমল পানীয় জব্দ

গুদামে অভিযান, জরিমানা ও স্বাস্থ্যের ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য শনাক্ত।
আব্দুল্লাহিল শাহীন: ঈদকে সামনে রেখে রংপুরে ভেজাল খাদ্যপণ্য ও কোমল পানীয় উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে।
সোমবার (৯ মার্চ) জেলা প্রশাসন, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং বিএসটিআই’র যৌথ অভিযানে নগরীর কুটিরপাড়া এলাকায় দানেশ ট্রেডার্সের গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ ভেজাল চিপস ও কোমল পানীয় জব্দ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) রংপুরের পরীক্ষায় ৪২টি পণ্য থেকে চারটি নিম্নমানের বা ভেজাল হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। এতে রয়েছে সেমাই, লাচ্ছা সেমাই এবং চানাচুর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব নিম্নমানের খাদ্যপণ্য জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তবে পরীক্ষার বাইরে আরও অন্তত অর্ধশত ভেজাল পণ্য বাজারে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তমাল আজাদ-এর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ‘মিং মিং চিপস’, ‘বিগ ওয়েভ চিপস’ এবং ‘মজা’, ‘টেন আপ’, ‘তাজা’ নামের কোমল পানীয়সহ প্রায় ৩ লাখ ৯৫ হাজার টাকা মূল্যের ভেজাল পণ্য জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা কোমল পানীয় ধ্বংস করা হয় এবং গুদাম মালিক দানেশকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানে অংশ নেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ রংপুরের কর্মকর্তা লোকমান হোসেন, বিএসটিআই-এর পরিদর্শক প্রকৌশলী তাদমিরা শারমিন, জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মাহবুবার রহমান এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান।
তমাল আজাদ বলেন, “গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ভেজাল শিশু খাদ্য ও কোমল পানীয় জব্দ করা হয়েছে। কিছু পণ্য পরীক্ষা করে দেখা গেছে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হেভি মেটাল রয়েছে। এছাড়া এই পণ্যের কোনো নিবন্ধন নেই।” তিনি আরও বলেন, ঈদকে সামনে রেখে অসাধু ব্যবসায়ীরা নিম্নমানের পণ্য বাজারে ছাড়ার চেষ্টা করছে। জব্দকৃত পণ্যের উৎপাদনস্থল হিসেবে শুধু ঢাকা ও নরসিংদীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে; ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো গোপন কারখানায় উৎপাদিত।
বিএসটিআই রংপুরের সহকারী পরিচালক (সিএম) প্রকৌশলী মো. মেসবাহ-উল-হাসান বলেন, “ভেজাল প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। আগামী দিনেও অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”






