বারবার ঈদ সালামির স্বপ্ন ভাঙছে বাংলাদেশ ব্যাংক

ঈদুল ফিতরে নতুন নোট ছাড়বে না বাংলাদেশ ব্যাংক: জনগণের জন্য বন্ধ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা ।
টুইট ডেস্ক: পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এবার সাধারণ নাগরিকদের জন্য নতুন টাকার নোট ছাড়বে না বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে পরিবারের সদস্যদের হাতে ঈদ সালামি হিসেবে নতুন নোট উঠবে না। দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক রোববার (৮ মার্চ) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ঈদের আগে বাজারে নতুন নোট সরবরাহ করা হবে না। পরিবর্তে, নতুন নোটগুলো সারা বছর ধরে চাহিদা অনুসারে ব্যাংকগুলোতে সরবরাহ করা হবে। মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “একটি নোট ডিজাইন থেকে বাজারে ছাড়তে দেড় বছর লাগে। একসঙ্গে ৯ ধরনের নোট ছাড়ার চাপ ছিল। গত বছর থেকেই এই রীতি বদলানো হয়েছে। নতুন নোট বাজারে ছাড়া একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া, কোনো বিশেষ উপলক্ষের প্রয়োজন নেই।”
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মীরা পাবেন লাখ টাকার নতুন নোট—সমালোচনার ঝড়
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা
কিন্তু সাধারণ জনগণের জন্য নতুন নোট বন্ধ থাকলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অভ্যন্তরীণ আদেশ জারি করে নতুন নোটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৩ মার্চের অফিস আদেশ অনুসারে;
নির্বাহী পরিচালক, পরিচালক, অতিরিক্ত পরিচালক ও যুগ্ম পরিচালক পদমর্যাদার কর্মকর্তারা প্রত্যেকে ১ লাখ ৮৩ হাজার টাকার সমপরিমাণ নতুন নোট নিতে পারবেন।
পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও অন্যান্য কর্মচারীরা সর্বোচ্চ ৬৮ হাজার টাকার নতুন নোট নিতে পারবেন। ৮ থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত চাহিদা অনুসারে এই নোট নেওয়া যাবে।
এই ব্যবস্থা নিয়ে ব্যাংকের অভ্যন্তরে এবং বাইরে তীব্র সমালোচনা উঠেছে। একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, “ব্যাংক খাতের সংস্কার চান, কিন্তু নিজেদের সুবিধা ছাড়তে চান না। নগদ টাকার ব্যবহার কমাতে চান, কিন্তু নিজেরা লাখ লাখ টাকার নতুন নোট নেন।” অনেকে মনে করেন, এই নোটগুলো অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে ফুটপাতের নতুন নোট ব্যবসায়ীদের কাছে চলে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ফুটপাতের ব্যবসা ও দাম বৃদ্ধি
প্রতিবছর ঈদের আগে মতিঝিল, গুলিস্তানসহ বিভিন্ন স্থানে ফুটপাতে নতুন নোট ও ছেঁড়া টাকার ব্যবসা জমজমাট হয়। কিন্তু এবার নতুন নোটের সরবরাহ না থাকায় ব্যবসায়ীরা চড়া দামে বিক্রি করছেন। হাজার টাকার বান্ডেলে ৩৫০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি রাখার অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক খোলা বাজারে নতুন নোট বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত নগদ লেনদেন কমানো এবং ডিজিটাল পেমেন্ট বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া হলেও জনগণের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে। ঈদ সালামির মতো সাংস্কৃতিক অভ্যাসে নতুন নোটের চাহিদা থাকলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সুবিধা দেখে সমালোচকরা বলছেন, এটি “দ্বিমুখী নীতি”র উদাহরণ। ব্যাংক খাতের সংস্কারের নামে সাধারণ মানুষের সুবিধা কমানো হলেও নিজেদের জন্য ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে।
ঈদের আগে এই ঘটনা দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।






