খোলা আকাশের নিচে রাত কাটে রেখা রানীর

স্বামী পরিত্যক্ত মানসিকভাবে অসুস্থ তরুণীর মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, সহায়তার অপেক্ষায় পরিবার

আব্দুল্লাহিল শাহীন: স্বামী পরিত্যক্ত ও মানসিক ভারসাম্যহীন এই তরুণীর দিন কাটছে চরম অনিশ্চয়তায়। মাথা গোঁজার ভাঙা ঘরটুকুও আর নেই। ফলে অধিকাংশ রাতই তাকে কাটাতে হচ্ছে খোলা আকাশের নিচে।

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার চাঁদখানা ইউনিয়নের উত্তর চাঁদখানা বগুলাগাড়ী কামারপাড়া গ্রামের ২০ বছর বয়সী তরুণী রেখা রানীর জীবন যেন এক করুণ বাস্তবতার গল্প।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিল রেখা রানীর। বিয়ের আগে তিনি ছিলেন স্বাভাবিক ও প্রাণবন্ত। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই তার জীবনে নেমে আসে দুঃসহ সময়। একপর্যায়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন তিনি। পরে স্বামীর পরিবার তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। তাদের সংসারে জন্ম নেওয়া একটি কন্যা সন্তান বর্তমানে বাবার কাছেই রয়েছে।

রেখা রানীর মা-বাবা দুজনেই মারা গেছেন। তার একমাত্র ভাই সীমিত আয়ের মানুষ হওয়ায় বোনের দেখভাল করা তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে এই তরুণীর এখন আশ্রয় বলতে নেই কোনো নিরাপদ ঘর কিংবা থাকার নির্ভরযোগ্য জায়গা।

স্থানীয় বাসিন্দা নমিতা বলেন, বিয়ের আগে রেখা খুব ভালো ও স্বাভাবিক মেয়ে ছিল। তার কোনো শারীরিক বা মানসিক সমস্যা ছিল না। ভাইয়ের উদ্যোগে পাশের এলাকা তারাগঞ্জ বাজারের গোয়ালপাড়ায় তার বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের পর একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। এরপর থেকেই ধীরে ধীরে সে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে।

তিনি আরও বলেন, “রেখার থাকার একটি ছোট ভাঙা চালা ছিল। সেটিও এখন ভেঙে মাটিতে পড়ে গেছে। গোসল করার জায়গা নেই, অনেক সময় ঠিকমতো খাবারও জোটে না। মাঝে মাঝে ডেকে বাড়িতে ভাত খাওয়াই।”

অশ্রুসজল চোখে কাঁপা কণ্ঠে রেখা রানী বলেন, “আমার মা-বাবা নেই। স্বামীর পরিবারের লোকজন আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। আমার মেয়েটা এখন তার বাবার কাছে থাকে। আমার থাকার জায়গা নেই, খাবার নেই, গোসল করারও জায়গা নেই।”

আরেক প্রতিবেশী মাহী রায় জানান, তিনি তারাগঞ্জ বাজারের একটি প্রসাধনী দোকানে কাজ করেন। প্রতিদিন যাতায়াতের পথে রেখাকে ভাঙা চালার পাশে বসে থাকতে দেখেন। এখন সেই চালাটিও আর নেই।

তিনি বলেন, “থাকার ঘর নেই, টিউবওয়েল নেই, গোসলের জায়গা নেই, ঠিকমতো খাবারও জোটে না। মাত্র ২০ বছরের একটি মেয়ের এমন কষ্ট দেখে খুবই খারাপ লাগে। আমি নিজেও সীমিত আয়ের মানুষ, তাই বেশি সাহায্য করতে পারি না। তবে সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষ এগিয়ে এলে হয়তো তার জীবনে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে।”

স্থানীয়দের মতে, প্রশাসন কিংবা সমাজের সচ্ছল মানুষের সহায়তা পেলে অসহায় এই তরুণীর জীবনে নতুন করে আশার আলো জ্বলতে পারে। বর্তমানে তার জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়, চিকিৎসা ও নিয়মিত খাবারের ব্যবস্থা জরুরি হয়ে উঠেছে।