ঢাকা ওয়াসার সাবেক এমডির অর্থ পাচার তদন্ত

কানাডার টরন্টোতে বাড়িসহ বিদেশে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ; মানিলন্ডারিং আইনে অনুসন্ধান শুরু সিআইডির।
টুইট ডেস্ক: ঢাকা ওয়াসার অপসারণকৃত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুস সালাম ব্যাপারীর বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় অর্জিত অর্থ অবৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশে পাচার করে তিনি নিজের ও পরিবারের নামে বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন।
রোববার (৮ মার্চ) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ের জন্য মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
অনুসন্ধানে প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, মো. আব্দুস সালাম ব্যাপারী ১৯৯১ সালে ঢাকা ওয়াসায় সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন।
পরবর্তীতে বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে তিনি ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদে উন্নীত হন। তবে চাকরিজীবনের সময়েই অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
সিআইডি সূত্র জানায়, অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ বিদেশে পাচার করে তিনি নিজ, তার স্ত্রী মাহবুবুন্নেছা এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ২০১৮ সালে তিনি নিজের নাম এবং তার স্ত্রীর নামে কানাডার টরন্টো শহরে একটি বাড়ি ক্রয় করেন। স্থানীয় ভূমি নিবন্ধন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৮ মার্চ ক্রয় করা ওই বাড়িটির বর্তমান মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২০ কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করছে সিআইডি।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা, ২০১৯ অনুযায়ী অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পাশাপাশি বিদেশে থাকা সম্পদের তথ্য সংগ্রহেও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।






