ইরান যুদ্ধে নিহত ১৩০০ ছাড়াল, ক্ষতিগ্রস্ত ২০ বিদ্যালয় ও ১০ হাসপাতাল

শিশু প্রায় ৩০ শতাংশ; ইউনিসেফের তথ্য
টুইট প্রতিবেদক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধে প্রথম সপ্তাহেই নিহতের সংখ্যা ১৩০০ ছাড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশই শিশু। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, হামলায় অন্তত ২০টি বিদ্যালয় ও ১০টি হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও মানবিক সংস্থাগুলোর তথ্য বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের লাইভ তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাতে ইরানে নিহতের সংখ্যা ১৩৩০-এর বেশি। নিহতদের মধ্যে শতাধিক নারী ও প্রায় দুই শতাধিক শিশু রয়েছে বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
যুদ্ধের প্রথম দিনেই ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হলে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। এরপর থেকে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও অবকাঠামোগত স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে।
জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, হামলায় বিদ্যালয়, হাসপাতাল ও অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দক্ষিণ ইরানের মিনাব এলাকায় একটি মেয়েদের বিদ্যালয়ে হামলায় শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এদিকে তেহরানের গান্ধী হাসপাতালসহ একাধিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি ঐতিহাসিক স্থাপনা ও খেলার মাঠেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
অন্যদিকে ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও মানববিহীন উড়োজাহাজ হামলা চালিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে।
তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে সরাসরি হামলা না এলে তাদের ভূখণ্ডে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করবে ইরান। তারপরও কয়েকটি স্থানে পাল্টা হামলার খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান ‘পূর্ণ শক্তিতে’ চালিয়ে যাওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের সীমা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে, আকাশপথে ভ্রমণের ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই সামরিক অভিযান থামানোর স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়নি।
সূত্র: আল জাজিরা, বিবিসি, সিএনএন, রয়টার্স, ইউনিসেফ ও জাতিসংঘের প্রতিবেদন।






