রয়টার্স সাংবাদিকের বিশ্লেষণ: যুদ্ধের লক্ষ্য অস্পষ্ট

রয়টার্স সাংবাদিকের বিশ্লেষণ: ইরানে ‘সম্পূর্ণ শাসন পরিবর্তন’ এখনো বাস্তবসম্মত নয়।
“এই অভিযানের শেষ লক্ষ্য কী—তা এখনো স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে পুরোপুরি শাসন পরিবর্তন হবে, এমনটা এই মুহূর্তে মনে হচ্ছে না।”
— Matt Spetalnick, Reuters ওয়ার্ল্ড নিউজ পডকাস্ট।

বিশ্ব ডেস্ক: রবিবার (৮ মার্চ) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের সামরিক অভিযান। এই প্রেক্ষাপটে Reuters–এর হোয়াইট হাউস ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক Matt Spetalnick বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানের এখনো কোনো পরিষ্কার “শেষ লক্ষ্য” নির্ধারণ করা হয়নি।

রয়টার্স ওয়ার্ল্ড নিউজ পডকাস্টে তিনি বলেন, সংঘাত ক্রমেই বিস্তৃত হলেও এখন পর্যন্ত এমন কোনো স্পষ্ট পরিকল্পনা সামনে আসেনি, যা থেকে বোঝা যায় শেষ পর্যন্ত কীভাবে এই যুদ্ধ শেষ হবে বা কোন শর্তে বিজয় ঘোষণা করা হবে।

অপারেশন “এপিক ফিউরি” দ্বিতীয় সপ্তাহে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump–এর নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে “Operation Epic Fury” নামে সামরিক অভিযান শুরু করে ২৮ ফেব্রুয়ারি।

অভিযানের লক্ষ্য হিসেবে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, সামরিক ঘাঁটি এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে দুর্বল করার কথা বলা হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, ইরানের সামরিক অবকাঠামোর ওপর একাধিক বড় হামলা চালানো হয়েছে এবং অভিযান এখন দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে।

পাল্টা হামলা ও আঞ্চলিক উত্তেজনা

অন্যদিকে ইরান এখনও ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। অধিকাংশ হামলা প্রতিরোধ করা হলেও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
পারস্য উপসাগর এলাকায় মার্কিন ঘাঁটির কাছাকাছি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন মিলিশিয়া গোষ্ঠীও সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ধাক্কা

যুদ্ধের কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ Strait of Hormuz দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সমুদ্রপথে তেল পরিবহন এই প্রণালী দিয়ে হয়। ফলে জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে।

হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর পর ইরানে এক হাজারের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ইসরায়েল ও মার্কিন পক্ষেও কিছু হতাহতের খবর পাওয়া গেছে, যদিও সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্লেষণ: লক্ষ্য বদলাচ্ছে কি?

বিশ্লেষকদের মতে, অভিযানের শুরুতে ইরানের শাসনব্যবস্থা দুর্বল করার কথা জোরালোভাবে আলোচনায় এলেও এখন বাস্তবে সম্পূর্ণ শাসন পরিবর্তন (রেজিম পরিবর্তন) ঘটানো খুব সহজ নয়। এই কারণেই Matt Spetalnick সতর্ক করে বলেছেন—পরিষ্কার রাজনৈতিক লক্ষ্য ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান এই সংঘাতের শেষ কোথায়—তা এখনো অনিশ্চিত বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।