কাতার থেকে এলএনজি আসছে

যুদ্ধের মধ্যেও বাংলাদেশের পথে গ্যাসবাহী ট্যাংকার, হরমুজ সংকটে অনিশ্চয়তা।

বিশ্ব ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও কাতার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী একটি ট্যাংকার বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Bloomberg–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতারের রাস লাফান এলএনজি টার্মিনাল থেকে “লেব্রেথাহ” নামের গ্যাসবাহী জাহাজটি শুক্রবার (৭ মার্চ) এলএনজি বোঝাই করে বাংলাদেশের দিকে যাত্রা শুরু করেছে।

জাহাজটির পানির নিচের গভীরতা বা ড্রাফট উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় নিশ্চিত হওয়া গেছে যে এতে পূর্ণমাত্রায় এলএনজি লোড করা হয়েছে। সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে ট্যাংকারটি ১৪ মার্চের দিকে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে পারে বলে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ সূত্র জানিয়েছে।

আরেকটি জাহাজ প্রস্তুত

একই সময়ে কাতার থেকে “আল ঘাশামিয়া” নামের আরেকটি এলএনজি ট্যাংকারও এই সপ্তাহে গ্যাস বোঝাই করেছে। তবে জাহাজটি এখনও পারস্য উপসাগর এলাকায় অপেক্ষমাণ রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই দুটি কার্গো বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পখাতে গ্যাস সরবরাহে আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতা ক্রমেই বাড়ছে।

হরমুজ প্রণালীই বড় ঝুঁকি

বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে Strait of Hormuz ঘিরে। ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।

বিশ্বের মোট এলএনজি বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এই পথ বন্ধ থাকলে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়।

সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি কেন্দ্র
ইরানি ড্রোন হামলার পর কাতারের Ras Laffan Industrial City—যা বিশ্বের সবচেয়ে বড় এলএনজি রপ্তানি কেন্দ্র—সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। সেই সময় রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো “ফোর্স মেজর” ঘোষণা করেছিল, অর্থাৎ যুদ্ধ বা জরুরি পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ চুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। এখন আবার ধীরে ধীরে লোডিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা

বাংলাদেশ প্রতি বছর কাতার থেকে প্রায় ৭২ শতাংশ এলএনজি আমদানি করে। মার্চ মাসে নির্ধারিত মোট ৯টি কার্গোর মধ্যে ইতোমধ্যে চারটি দেশে পৌঁছেছে। বাকি কার্গোগুলোর সরবরাহ এখন যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
এদিকে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক স্পট বাজার থেকে তুলনামূলক বেশি দামে এলএনজি কিনছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছেও জরুরি জ্বালানি সহায়তা চেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে

বিশ্লেষকদের মতে, যদি হরমুজ প্রণালী দ্রুত নিরাপদ না হয়, তবে এলএনজি ট্যাংকারগুলোকে সমুদ্রে ভাসমান গ্যাস সংরক্ষণ হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে মার্চের শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের গ্যাস সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।