তেহরানে আবারও মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা

আইআরজিসি ঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা ও জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত; আকাশে কালো ধোঁয়ার বিশাল স্তম্ভ।
টুইট ডেস্ক: ইরানের রাজধানী তেহরান ও তার আশপাশের সামরিক স্থাপনাগুলোতে আবারও ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র, কঠিন জ্বালানি কারখানা, আকাশ প্রতিরক্ষা ঘাঁটি এবং সামরিক কমান্ড কেন্দ্র লক্ষ্য করে এই হামলা পরিচালিত হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সূত্রে জানা গেছে।
শনিবার (৭ মার্চ) গত কয়েক ঘণ্টায় তেহরানের দক্ষিণ-পশ্চিমে পারান্দ এলাকার ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন স্থাপনা এবং খোজির অঞ্চলের সামরিক অবকাঠামোতে বিস্ফোরণের পর আকাশে ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন চিত্র ও চলমান দৃশ্যপটে বিশাল ধোঁয়ার স্তম্ভ এবং ধারাবাহিক বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।
দুই হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যৌথ সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যাঞ্চলীয় কমান্ড ও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী ইতোমধ্যে ইরানের ভেতরে দুই হাজার থেকে দুই হাজার সাতশোরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল—
আইআরজিসি কমান্ড পোস্ট
ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ ঘাঁটি
সামরিক বিমানঘাঁটি
আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
অস্ত্র ও রকেট জ্বালানি সংরক্ষণ কেন্দ্র।
বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাতের পর দ্বিতীয় দফা বিস্ফোরণ ঘটছে বলে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন। এসব বিস্ফোরণ মূলত রকেট জ্বালানি, রাসায়নিক উপাদান ও সামরিক জ্বালানি ভাণ্ডারে আগুন লাগার কারণে হচ্ছে।
পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইরান
ইরানও এই হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চল, ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনা এবং মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাতের চেষ্টা করছে তেহরান।
ইরানের সামরিক সূত্র জানিয়েছে, হামলায় আইআরজিসির কিছু সদস্য নিহত হয়েছে, যদিও ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
দ্বিতীয় সপ্তাহে যুদ্ধ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাত এখন দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানের সামরিক অবকাঠামোর ওপর ধারাবাহিক হামলার লক্ষ্য হলো ইরানের আঞ্চলিক সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা।
তবে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠছে। নতুন বিস্ফোরণ, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং সামরিক তৎপরতার কারণে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করেছেন।






