বশির আহমেদকে নিয়ে কনক চাঁপার আবেগ

স্বাধীনতা পুরস্কার ঘোষণায় স্মৃতিচারণ; প্রিয় ওস্তাদকে জান্নাতের দোয়া শিল্পীর।

টুইট ডেস্ক: সংগীতাঙ্গনের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী বশির আহমেদকে মরণোত্তর ‘স্বাধীনতা পুরস্কার “২০২৬”দেওয়ার সরকারি ঘোষণার পর সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় উঠেছে তার অবদান।

প্রিয় শিল্পীর এ স্বীকৃতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা।

শুক্রবার নিজের ফেসবুক পৃষ্ঠায় বশির আহমেদের একটি ছবি প্রকাশ করে কনকচাঁপা লেখেন, ‘ওস্তাদজী, সুরের উত্তরসূরি হিসেবে আপনার এই সম্মান আমার হৃদয়ের গভীরে ছুঁয়ে গেল।

জানি না আপনি জানতে পারছেন কি না; কিন্তু আপনার এই সম্মানে আমাদের গর্বে বুক ভরে গেছে।
আল্লাহ আপনাকে ও ওস্তাদ মাকে জান্নাতুল ফেরদৌসের উচ্চ মাকাম দান করুন।

রব্বির হামহুমা কামা রব্বা ইয়ানি সগিরা।তার এই আবেগঘন বার্তার নিচে বহু ভক্ত ও সংগীতপ্রেমী মন্তব্য করে কিংবদন্তি এই শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

অনেকেই মনে করেন, বাংলা সংগীতের অসাধারণ এক সুরস্রষ্টা ও কণ্ঠশিল্পী হিসেবে বশির আহমেদের অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে আরও বেশি তুলে ধরা প্রয়োজন।

ওয়াসেক মুত্তাকিনুর রহমান নামের একজন মন্তব্যে লিখেছেন, বশির আহমেদ ছিলেন এমন এক শিল্পী, যার কণ্ঠ বাংলা ও উর্দু,দুই ভাষার গানেই শ্রোতাদের এক অনন্য সুরের জগতে নিয়ে যেত।

তাকে যেন কখনো ভুলে না যায় জাতি,এমন প্রত্যাশাও জানান তিনি।

আরেক মন্তব্যকারী পাপলু ইকরাম আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, অনেক সময় গুণী মানুষদের জীবদ্দশায় যথাযথ সম্মান দেওয়া হয় না।
তিনি মনে করেন, বেঁচে থাকতে এই স্বীকৃতি পেলে শিল্পীর আনন্দ আরও পূর্ণ হতো।

ফারজিন রহমান পুশন লিখেছেন, দেরিতে হলেও সরকার একজন গুণী সংস্কৃতি ব্যক্তিত্বকে সম্মানিত করেছে—এটি ইতিবাচক। তবে ভবিষ্যতে দেশের মহীরুহ শিল্পীদের জীবদ্দশাতেই এমন স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

১৯৩৯ সালের ১৯ নভেম্বর কলকাতার খিদিরপুরে জন্মগ্রহণ করেন সংগীতশিল্পী বশির আহমেদ।

সংগীতজীবনের শুরুতে তিনি ওস্তাদ বেলায়েত হোসেনের কাছে তালিম নেন। পরে মুম্বাইয়ে উপমহাদেশের প্রখ্যাত ওস্তাদ বড়ে গোলাম আলী খাঁর কাছেও সংগীত শিক্ষা গ্রহণ করেন।

ষাটের দশকে চলচ্চিত্রের গানে তার কণ্ঠ দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়।‘যাব তোম একেলে হোগে হাম ইয়াদ আয়েঙ্গে’ গানটি সে সময় ব্যাপক সাড়া ফেলে। বাংলা ও উর্দু উভয় ভাষার গানে সমান দক্ষতা দেখিয়ে তিনি উপমহাদেশের সংগীতাঙ্গনে স্বতন্ত্র পরিচিতি গড়ে তোলেন।

বাংলাদেশে আসার পরও চলচ্চিত্র ও আধুনিক গানে তার অবদান অব্যাহত থাকে।

‘আমার খাতার প্রতি পাতায়’, ‘যা রে যাবি যদি যা’, ‘অনেক সাধের ময়না আমার’, ‘বন্ধু সেই দেখা কেন শেষ দেখা হলো’সহ অসংখ্য গান শ্রোতাদের মনে আজও সমানভাবে বেঁচে আছে।

চলচ্চিত্র কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি ছবির গানের জন্য ২০০৩ সালে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ গায়কের স্বীকৃতি পান।

২০০৫ সালে তাকে একুশে পদকেও ভূষিত করা হয়।

২০১৪ সালের ১৯ এপ্রিল ঢাকার মোহাম্মদপুরে নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন এই বরেণ্য সংগীতশিল্পী।

মৃত্যুর এক দশকেরও বেশি সময় পর স্বাধীনতা পুরস্কারের ঘোষণার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির সর্বোচ্চ সম্মানগুলোর একটি যুক্ত হলো তার নামের সঙ্গে,যা নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে তার ।অনন্য