ফাইনালে ভারত, ভাঙল ইংল্যান্ডের স্বপ্ন

স্যামসনের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৭ রানের জয়; শিরোপা লড়াইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে ভারত।

টুইট প্রতিবেদক:মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে প্রত্যাশিত রানবন্যার ম্যাচে শেষ পর্যন্ত জয় পেয়েছে ভারত। রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে ৭ রানে হারিয়ে টুর্নামেন্টের ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে তারা। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন সাঞ্জু স্যামসন, যিনি ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন।

আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় ভারত। দলীয় ২০ রানের মাথায় ফিরে যান ওপেনার অভিষেক শর্মা। তবে সেই ধাক্কা দ্রুত সামলে নেন সাঞ্জু স্যামসন। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ইংলিশ বোলারদের ওপর চড়াও হন তিনি। মাত্র ৪২ বলে ৮টি চার ও ৭টি ছক্কায় করেন ঝড়ো ৮৯ রান।

স্যামসনের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতায় রান তোলার গতি ধরে রাখেন ঈশান কিষাণ ও শিভম দুবে। কিষাণ ১৮ বলে ৩৮ রান করেন, আর দুবে খেলেন ২৫ বলে ৫৪ রানের কার্যকর ইনিংস। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৫৩ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় ভারত। ইংল্যান্ডের হয়ে উইল জ্যাকস দুটি উইকেট নেন।

২৫৪ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি ইংল্যান্ডের। দলীয় ৬৪ রানের মধ্যেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে তারা। তখন ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কাই জেগেছিল ইংলিশ শিবিরে।
তবে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন জ্যাকব বেথেল। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ম্যাচে ফেরার আশা জাগান তিনি। মাত্র ৪৮ বলে ১০৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন বেথেল। শেষ ওভারের প্রথম বলে রানআউট হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি একাই লড়াই চালিয়ে যান।

তাকে কিছুটা সহায়তা করেন উইল জ্যাকস, যিনি ২০ বলে ৩৫ রান করেন। কিন্তু বেথেলকে শেষ পর্যন্ত কেউ দীর্ঘ সময় সঙ্গ দিতে না পারায় জয়ের কাছাকাছি গিয়েও থেমে যায় ইংল্যান্ডের ইনিংস। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৪৬ রান তুলেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাদের।

ভারতের হয়ে হার্দিক পান্ডিয়া দুটি উইকেট নেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রান নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেন।
এই জয়ের ফলে আগামী ৮ মার্চ ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে ভারত। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৪ সালের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালেও এই দুই দলই শিরোপার জন্য মুখোমুখি হয়েছিল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
ভারত: ২০ ওভারে ২৫৩/৭ (স্যামসন ৮৯, দুবে ৫৪, জ্যাকস ২/৪০)
ইংল্যান্ড: ২০ ওভারে ২৪৬/৭ (বেথেল ১০৫, জ্যাকস ৩৫, পান্ডিয়া ২/৩৮)
ফল: ভারত ৭ রানে জয়ী
ম্যাচসেরা: সাঞ্জু স্যামসন।