জ্বালানি তেলে কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে দেশজুড়ে অভিযান

অবৈধ মজুদ, পাচার ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির বিরুদ্ধে প্রশাসনের কড়াকড়ি।
টুইট প্রতিবেদক: সারাদেশে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত দামে বিক্রি প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও জ্বালানি বিভাগের যৌথ অভিযান চলছে।
শনিবার (৭ মার্চ) থেকে সরকার কঠোর মনিটরিং ও অভিযান জোরদার করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় দেশে আতঙ্কিত কেনাকাটার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে কিছু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে সরকার কঠোর মনিটরিং ও অভিযান জোরদার করেছে।
রাজশাহীর দুর্গাপুরে জরিমানা
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লায়লা নূর তানজুর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে খোলা তেল বিক্রি এবং অতিরিক্ত দামের অভিযোগে দুই ব্যবসায়ীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযানের সময় তেল মজুদের হিসাব যাচাই, বিস্ফোরক লাইসেন্স নবায়ন এবং বিক্রির রশিদ সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত মনিটরিং অব্যাহত থাকবে।
খাগড়াছড়িতে যৌথ অভিযান
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় উপজেলা প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোনের যৌথ অভিযানে বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ও দোকানে তদারকি করা হয়েছে।
এ সময় কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রি না করার জন্য ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়। ভবিষ্যতে অনিয়ম প্রমাণিত হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
যশোরে পাম্পে অভিযান
যশোরে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে অবৈধ মজুদ ও অতিরিক্ত দামের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আতঙ্কিত কেনাকাটার কারণে অনেক পাম্পে জ্বালানি দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে এবং গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মনিটরিং জোরদার করেছে।
সীমান্তে পাচার ঠেকাতে কড়া নজরদারি
সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে জ্বালানি তেলের অবৈধ পাচার ঠেকাতে সীমান্তরক্ষী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছে।
দিনাজপুরের হিলি, যশোরসহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় টহল, চেকপয়েন্ট ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
বিশ্ব পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে পাচার চক্র সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কায় সীমান্তে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে।
ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় আতঙ্কিত কেনাকাটা
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। অনেক গ্রাহক অতিরিক্ত জ্বালানি কিনে মজুত করার চেষ্টা করছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জ্বালানি তেল কেনার সীমা নির্ধারণ করেছে রাষ্ট্রীয় তেল সংস্থা।
নির্দেশনা অনুযায়ী মোটরসাইকেলে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২ লিটার এবং ব্যক্তিগত গাড়িতে ১০ লিটার পর্যন্ত তেল বিক্রি করা যাবে। খোলা ড্রাম বা বোতলে জ্বালানি বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এ ছাড়া জেলা প্রশাসনের তদারকি দল গঠন করে মজুদ ও পাচার রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
দেশে পর্যাপ্ত মজুদ: বিপিসি
রাষ্ট্রীয় তেল সংস্থা জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৩৬ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেলের মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে ডিজেলের মজুদ প্রায় ১৪ দিনের, পেট্রলের ৯ থেকে ১৫ দিনের এবং অকটেনের ১৭ থেকে ২৮ দিনের চাহিদা মেটানোর মতো রয়েছে।
সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চীন, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি তেল আমদানি বাড়ানো হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেশি হলেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে সরকার আমদানি অব্যাহত রেখেছে।
জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্যোগ
সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য কিছু খাতে সরবরাহ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে গ্যাস সরবরাহ প্রায় ২০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত কমানো এবং বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদন খাতে ব্যবহার কমানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান
সরকারি কর্মকর্তারা জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি তেল কেনার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, দেশে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অবৈধ মজুদ বা পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ায় সবাইকে সরকারি ঘোষণা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।






