রাজশাহীতে বুলবুলই যোগ্য: প্রশাসক দা‌বি জোরালো!

বিএনপির একাংশের সমর্থন; তবে দৌড়ে আরও কয়েক নেতা

বি‌শেষ প্রতি‌বেদক: রাজশাহীর অনেক বিএনপি নেতা-কর্মী ও সমর্থকের মতে, মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল আবার দায়িত্ব পেলে নগর উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে প্রশাসক হিসেবে দেখতে চাওয়ার দাবি উঠছে।

বিএনপির সমর্থকরা বুলবুলের পাশে

মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ২০১৩ সালে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। তার মেয়াদকাল ছিল ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত। তবে এই সময়ে তিনি একাধিক মামলায় জড়িয়ে পড়েন।

২০১৫ সালে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। এরপর কিছু সময় তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। পরে ২০১৬ সালে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন এবং কারাগারেও যান। সমর্থকদের দাবি, মামলা ও হয়রানির কারণে তিনি মেয়াদকালে পূর্ণাঙ্গভাবে নগর উন্নয়নে মনোযোগ দিতে পারেননি।

বর্তমানে ২০২৬ সালের মার্চ মাসে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ নিয়ে আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক পোস্টে তাকে “নির্যাতিত মেয়র” এবং “মজলুম জনতার মেয়র” বলে উল্লেখ করে প্রশাসক পদে দেখতে চাওয়া হচ্ছে। মহানগর বিএনপির অনেক নেতা-কর্মীও তাকে বিকল্পহীন মনে করেন।

তবে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসক পদের জন্য বিএনপির আরও অর্ধডজন নেতা তদবির করছেন। ফলে বিষয়টি নিয়ে দলীয় পর্যায়ে একাধিক নাম আলোচনায় রয়েছে।

বুলবুলের প্রধান মামলাগুলো হ‌লো

পুলিশ কনস্টেবল সিদ্ধার্থ চন্দ্র সরকার হত্যা মামলা (সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য)

২৬ ডিসেম্বর ২০১৩: রাজশাহীতে পুলিশের গাড়িতে বোমা হামলা। ১ কনস্টেবল নিহত, ৮ পুলিশ আহত।

সেপ্টেম্বর ২০১৪: বুলবুলসহ ৮৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয় (রাজশাহীর দুটি মামলায়)।

পণ্যবাহী গাড়িবহরে পেট্রোলবোমা হামলা
২২-২৩ জানুয়ারি ২০১৫: মতিহার থানার কাপাশিয়া ও কাদিরগঞ্জ এলাকায় ট্রাক-গাড়িবহরে হামলা। ৫টি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত, ১ ড্রাইভার আহত।

পুলিশের মামলায় বুলবুলকে হুকুমের আসামি করা হয় (বোয়ালিয়া মডেল থানা)।

যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোলবোমা হামলা
১৯ জানুয়ারি ২০১৫: ভদ্রা এলাকায় বাসে হামলা।

বোয়ালিয়া থানার ওসির ওপর হামলা
৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৫: থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ওপর হামলার মামলা।

অন্যান্য: পুলিশের ওপর হামলার আরও ১১টি মামলার উল্লেখ আছে। মোট মামলার সংখ্যা বিভিন্ন রিপোর্টে ১৭টি বলা হয়েছে।

বেশিরভাগ মামলা ছিল পুলিশি। তবে সমর্থকরা বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে কিছু কাউন্সিলরের (বিশেষ করে আওয়ামী লীগপন্থী বা বিরোধী) অভিযোগ/বিরোধ থেকে হয়রানি বেড়েছিল। তাকে বরখাস্তের পর ২১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নিজাম উল আজিমকে ভারপ্রাপ্ত মেয়র করা হয়েছিল — এটি নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনা ছিল।

বর্তমান অবস্থা (২০২৬ পর্যন্ত)

অধিকাংশ মামলায় জামিনে আছেন। কোনো চূড়ান্ত সাজার নেই। তিনি এখনো বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক।

সার্বিকভাবে বলা যায়, বুলবুলের আগের অভিজ্ঞতা ও হয়রানির ঘটনা অনেকের কাছে বাস্তবতা হিসেবে বিবেচিত। এবার যদি তিনি দায়িত্ব পান, তাহলে রাজশাহী নগরীর উন্নয়ন নিয়ে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি থাকবে।

রাজশাহীর সাধারণ জনগন ম‌নে ক‌রেন, বুলবুলই যোগ্য প্রশাসক। তবে শেষ পর্যন্ত যিনিই দায়িত্ব পান, রাজশাহীবাসীর প্রত্যাশা থাকবে স্বচ্ছ ও দ্রুত উন্নয়ন।