খামেনির মৃত্যুর পর প্রথম জুমা: হামলার মধ্যেই জাতীয় ঐক্যের বার্তা

তেহরানে শোক সমাবেশ। রমজানেও উত্তপ্ত ইরান; যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল হামলার মধ্যেই জাতীয় ঐক্যের বার্তা।

টুইট ডেস্ক: ইরানের প্রয়াত সুপ্রিম লিডার Ali Khamenei–এর মৃত্যুর পর প্রথম জুমার নামাজ ঘিরে রাজধানী Tehranসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক শোক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (৬ মার্চ) হাজার হাজার উপাসক কালো পোশাক পরে এবং খামেনির ছবি হাতে নিয়ে মসজিদ ও খোলা প্রাঙ্গণে জড়ো হন।

রাজধানীর বিশাল ধর্মীয় স্থাপনা Imam Khomeini Grand Mosque–এ অনুষ্ঠিত জুমার নামাজে অংশ নেওয়া মানুষ ইরানের পতাকা উড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী স্লোগান দেন। অনেককে আবেগাপ্লুত হয়ে কাঁদতেও দেখা গেছে।

খুতবায় বক্তারা খামেনিকে “আমাদের যুগের ধর্মপরায়ণতা ও অভিভাবকত্বের প্রতীক” আখ্যা দিয়ে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। রমজান মাস চলাকালেও এই নামাজ ও সমাবেশ অব্যাহত রয়েছে, যদিও একই সময়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় চলতে থাকার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানের একটি নেতৃত্ব কম্পাউন্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ৮৬ বছর বয়সী খামেনি নিহত হন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জানানো হয়। ১৯৮৯ সাল থেকে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

ওয়াশিংটন থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

খামেনির মৃত্যুর পর ইরান সরকার দেশজুড়ে ৪০ দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছে।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে বিভিন্ন সূত্রে “অপারেশন এপিক ফিউরি” বা “রোয়ারিং লায়ন” নামে উল্লেখ করা হচ্ছে। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন ও মিত্র ঘাঁটির দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও মানববিহীন উড়োজাহাজ হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে।
ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ইরানের প্রতি “আত্মসমর্পণ” করার আহ্বানও জানানো হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে।

খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা নিরাপত্তাজনিত কারণে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আয়োজন করা হয়নি। এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতৃত্ব নির্ধারণের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা Assembly of Experts সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে বৈঠক করছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

সম্ভাব্য নামগুলোর মধ্যে খামেনির ছেলে Mojtaba Khamenei–এর নামও আলোচনায় রয়েছে।

খামেনির মৃত্যুকে ঘিরে ইরানে একদিকে যেমন শোক ও ক্ষোভের আবহ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে সমাজের একটি অংশের মধ্যে ভিন্ন প্রতিক্রিয়াও দেখা যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, শোক সমাবেশ ও জুমার নামাজে ব্যাপক অংশগ্রহণ ইরানের রাষ্ট্রীয় শক্তি ও জাতীয় ঐক্যের বার্তা দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা।

তবে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত অস্থির বলে মনে করছেন