ইরানি হামলায় বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের নৌঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত

ইরানি হামলায় বাহরাইনে উত্তেজনা, আঞ্চলিক মিত্রতায় নতুন প্রশ্ন!
টুইট প্রতিবেদক: ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় বাহরাইনের রাজধানী মানামাসহ বিভিন্ন স্থানে আঘাত হেনেছে।
সবচেয়ে বড় লক্ষ্যবস্তু ছিল যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর। বাহরাইন সরকার এই আক্রমণকে সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভিডিও ও সরকারি বিবৃতি অনুসারে, মানামার জুফায়ার এলাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের নৌঘাঁটিতে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঘাত করেছে। কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। বাহরাইনের জাতীয় যোগাযোগ কেন্দ্র জানিয়েছে, বেশিরভাগ প্রক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আটকে গেলেও কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ইরানি পক্ষ দাবি করেছে, তারা ২০টি ড্রোন ও তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ঘাঁটির প্রধান কমান্ড ভবন ধ্বংস করেছে।
এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। বাহরাইন যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং পঞ্চম নৌবহরের প্রধান ঘাঁটি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে আসছে। অথচ হামলার সময় যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি সুরক্ষা দিতে পারেনি বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র কয়েকটি জাহাজ সরিয়ে নিয়েছিল, যা ইরানের সম্ভাব্য হুমকির আশঙ্কায় নেওয়া পদক্ষেপ বলে মনে করা হয়।
তবে বাহরাইন সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো দ্বিপাক্ষিক চুক্তি, করিডোর বা প্রতিরক্ষা সমঝোতা প্রত্যাহারের কোনো ঘোষণা আসেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু গুজব ছড়ালেও সরকারি সূত্রে তা সম্পূর্ণ অস্বীকৃত। বরং বাহরাইনের রাজা ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের মধ্যে সাম্প্রতিক যোগাযোগে মিত্রতা আরও সুদৃঢ় করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
পরিস্থিতি এখনও অস্থির। ইরানের পক্ষ থেকে আরও প্রতিশোধের হুমকি রয়েছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই হামলা পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করবে। তবে বাহরাইনের মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে ত্যাগ করার সম্ভাবনা এখনই দেখা যাচ্ছে না।
TweetNews24.com-এর পর্যবেক্ষণ
এই ঘটনা শুধু বাহরাইন-ইরান সম্পর্ক নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যকে প্রভাবিত করবে। সর্বশেষ তথ্য অনুসারে কোনো চুক্তি প্রত্যাহারের খবর নেই।






