শিপিং ব্যয় বাড়াল এমএসসি: বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে নতুন চার্জ

হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির উত্তেজনায় শিপিং ব্যয় বাড়াল এমএসসি; বাংলাদেশি রপ্তানিতে বাড়তি চাপ।
টুইট প্রতিবেদক: বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক পরিবহন খাতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে ঝুঁকি বৃদ্ধির কারণে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কনটেইনার পরিবহন কোম্পানি MSC Mediterranean Shipping Company জরুরি ভিত্তিতে নতুন যুদ্ধ ঝুঁকি শুল্ক আরোপ করেছে।
কোম্পানিটি বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর দুটি পৃথক গ্রাহক পরামর্শ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, জরুরি যুদ্ধ শুল্ক ও যুদ্ধ ঝুঁকি শুল্ক অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সামরিক উত্তেজনার কারণে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ— Strait of Hormuz ও Bab el‑Mandeb প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে নতুন চার্জ
কোম্পানির ঘোষণায় বলা হয়েছে, ভারতীয় উপমহাদেশের দেশ—ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ থেকে পূর্ব আফ্রিকা, সোমালিয়া, মোজাম্বিক এবং ভারত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জগামী পণ্যের ক্ষেত্রে নতুন শুল্ক আরোপ করা হবে।
শুকনো কনটেইনার: প্রতি টিইইউ ৫০০ মার্কিন ডলার
শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (রেফ্রিজারেটেড) কনটেইনার: প্রতি টিইইউ ১,০০০ মার্কিন ডলার
উপসাগরীয় অঞ্চল থেকেও বাড়তি খরচ
অন্যদিকে বাহরাইন, ইরাক, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও নতুন শুল্ক ধার্য করা হয়েছে।
২০ ফুট কনটেইনার: ২,০০০ ডলার
৪০ ফুট কনটেইনার: ৩,০০০ ডলার
রেফ্রিজারেটেড কনটেইনার: ৪,০০০ ডলার
কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।
কেন হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত
সাম্প্রতিক ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক করিডোরে নিরাপত্তা ঝুঁকি দ্রুত বেড়েছে। ফলে অনেক জাহাজকে বিকল্প দীর্ঘপথ—আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্তের কেপ অব গুড হোপ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে জ্বালানি, বীমা ও পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।
শুধু এমএসসি নয়, বিশ্বের আরও কয়েকটি বড় পরিবহন কোম্পানিও জরুরি যুদ্ধ শুল্ক আরোপ বা বুকিং সীমিত করার ঘোষণা দিয়েছে।
বাংলাদেশের রপ্তানিতে সম্ভাব্য প্রভাব
বাংলাদেশ থেকে পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকার বাজারে তৈরি পোশাক, পাটজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ্য ও ওষুধ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রপ্তানি হয়। নতুন এই অতিরিক্ত চার্জ কার্যকর হওয়ায় রপ্তানিকারকদের পরিবহন ব্যয় বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, অতিরিক্ত ব্যয় শেষ পর্যন্ত হয় বিদেশি ক্রেতার ওপর চাপানো হবে, নয়তো রপ্তানিকারকদের মুনাফা কমে যাবে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে আফ্রিকার বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতাও চাপে পড়তে পারে।
কোম্পানি জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুযায়ী ভবিষ্যতে এই শুল্ক সংশোধন বা প্রত্যাহারের বিষয়ে নতুন ঘোষণা দেওয়া হবে।






