ইসরায়েলের জন্য যুদ্ধ নয়: সিনেটে চিৎকার

মার্কিন সিনেটে চিৎকার, ভেটেরানকে বের করে দিল পুলিশ । ইরান যুদ্ধবিরোধী প্রতিবাদে উত্তেজনা, হাত আহত; ভিডিও ভাইরাল!

টুইট ডেস্ক: ইরানে সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন সিনেটের একটি শুনানিতে নাটকীয় ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার (৪ মার্চ) শুনানি চলাকালে এক ভেটেরান সেনা সদস্য হঠাৎ দাঁড়িয়ে ইসরায়েলের পক্ষে যুদ্ধের বিরোধিতা করে জোরালো প্রতিবাদ জানান। পরে তাকে জোর করে হলরুম থেকে বের করে দেয় ক্যাপিটল পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটে বুধবার (৪ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির অধীনস্থ রেডিনেস অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সাপোর্ট সাবকমিটির শুনানিতে।

প্রতিবাদকারী ব্যক্তি ব্রায়ান ম্যাকগিনিস, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন কর্পসের সাবেক সার্জেন্ট এবং নর্থ ক্যারোলাইনা থেকে গ্রিন পার্টির সম্ভাব্য সিনেট প্রার্থী।

শুনানির মাঝেই দাঁড়িয়ে তিনি উচ্চস্বরে বলেন—

“কেউ ইসরায়েলের জন্য যুদ্ধ করতে চায় না”
“আমরা ইসরায়েলের জন্য মরতে চাই না”
“আমেরিকা তার সন্তানদের ইসরায়েলের জন্য যুদ্ধে পাঠাতে চায় না”

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক হামলার বিরোধিতা করতেই তিনি এই প্রতিবাদ জানান।

প্রতিবাদের সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ক্যাপিটল পুলিশ দ্রুত তাকে হলরুম থেকে বের করে দিতে এগিয়ে আসে। এ সময় মন্টানা অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান সিনেটর টিম শিহিও পুলিশকে সহায়তা করেন।

ভিডিওতে দেখা যায়, জোর করে বের করার সময় ধস্তাধস্তির মধ্যে ম্যাকগিনিসের হাত দরজায় আটকে যায় এবং এতে তার হাত ভেঙে যাওয়ার বা গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।
পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

গ্রেপ্তারের মুখে ভেটেরান

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ম্যাকগিনিসের বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবাদের স্বাধীনতা থাকলেও কংগ্রেসের শুনানির মতো আনুষ্ঠানিক বৈঠকে এ ধরনের ব্যাঘাত ঘটানো আইনগতভাবে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।

সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল

ঘটনার ভিডিও ও ছবি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই এটিকে ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজনের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত যত বাড়ছে, ততই যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও যুদ্ধবিরোধী অবস্থান নতুন করে জোরালো হয়ে উঠছে।