ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি: ইরানের নতুন নেতা “মারা যাবে”

খামেনির উত্তরসূরিদের লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হুমকি; নিহতের সংখ্যা ১,০৪৫ ছাড়িয়েছে।
বিশ্ব ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের নেতৃত্ব “খুব দ্রুত কমে যাচ্ছে” এবং যে কেউ নেতা হওয়ার চেষ্টা করবে, শেষ পর্যন্ত তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যাবে। এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার পেয়েছে।
খামেনির উত্তরসূরিদের প্রতি সরাসরি হুমকি
যৌথ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর ট্রাম্প বলেন, “যে কেউ নেতা হতে চায়, তারা মারা যাচ্ছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা যাদের মনে রেখেছিলাম তারা মারা গেছে… এখন আরেকটা গ্রুপ, তারাও সম্ভবত মারা গেছে। তৃতীয় তরঙ্গ আসছে।”
ট্রাম্পের এই বক্তব্যে স্পষ্ট যে, খামেনির সম্ভাব্য উত্তরসূরি—যেমন তার ছেলে মোজতবা খামেনি—এখনও লক্ষ্যবস্তুতে রয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীও বলেছেন, নতুন নেতা নির্বাচিত হলে তাকে “হত্যার লক্ষ্য” করা হবে যদি ইরানের বিরোধী নীতি অব্যাহত থাকে।
যুদ্ধের অগ্রগতি ও ট্রাম্পের দাবি
ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি বিশ্বে সবচেয়ে শক্তিশালী এবং তারা এখন “খুব শক্ত অবস্থানে”। তিনি বলেন, “কেউ জিজ্ঞেস করেছিল ১০-এর মধ্যে কত দেব? আমি বলেছি প্রায় ১৫।” যুদ্ধ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে, যাতে ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা, কমান্ডার এবং সম্ভাব্য উত্তরসূরি অনেকেই নিহত হয়েছেন। এতে ইরানের নেতৃত্বের উত্তরাধিকার প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয়েছে।
ইরানে নিহতের সংখ্যা ১,০৪৫ ছাড়িয়েছে
আল জাজিরার লাইভ প্রতিবেদন অনুসারে, যৌথ হামলায় ইরানে নিহতের সংখ্যা ১,০৪৫-এ পৌঁছেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় মিডিয়া ও ফাউন্ডেশন অব মার্টার্স অ্যান্ড ভেটেরান্স অ্যাফেয়ার্স এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইসরায়েল তেহরানসহ বিভিন্ন স্থানে সামরিক ও নিরাপত্তা অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন হামলা চালিয়েছে। খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছে বিস্ফোরণের ভয় ও বিপুল জনসমাগমের কারণে।
ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারি ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলতে পারে। উত্তরসূরি নির্বাচন নিয়ে আলোচনা চলছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকায় নতুন নেতা নির্বাচন বিলম্বিত হচ্ছে। যুদ্ধ গাল্ফ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে, তেলের দাম বাড়ছে এবং আঞ্চলিক অস্থিরতা তীব্রতর হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কূটনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা, ইরান ইন্টারন্যাশনাল, রয়টার্স, বিবিসি ও সিএনএন






