ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ পঞ্চম দিনে: উপসাগরীয় আকাশপথ আংশিক বন্ধ

নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা; উপসাগরীয় আকাশপথ আংশিক বন্ধ

টুইট প্রতিবেদক: ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত পঞ্চম দিনে গড়িয়েছে। আজ ৫মার্চ সকালে ইরান ইসরায়েলের দিকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে তেহরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও ইসরায়েলি সামরিক সূত্র জানিয়েছে।

তেল আবিবসহ কয়েকটি এলাকায় সতর্কতা সাইরেন বেজে ওঠে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হুমকি প্রতিহতের চেষ্টা চালায়। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি; আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে যাওয়ার অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।

টর্পেডো হামলায় ইরানি ফ্রিগেট ডুবির দাবি

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর ৪ মার্চ প্রকাশিত এক ভিডিওতে দাবি করেছে, ভারত মহাসাগরে মার্কিন সাবমেরিন থেকে টর্পেডো নিক্ষেপে ইরানের যুদ্ধজাহাজ IRIS Dena ডুবে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সচিব Pete Hegseth বলেন, জাহাজটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থান করছিল। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কার কাছাকাছি ওই ঘটনায় শতাধিক নৌসদস্য নিখোঁজ, একজন নিহত ও ৭৮ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর টর্পেডো ব্যবহার করে শত্রু জাহাজ ডুবির ঘটনা অত্যন্ত বিরল—এ দাবি সঠিক হলে তা সামরিক ইতিহাসে তাৎপর্যপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

দুবাইয়ে আকাশপথে কড়াকড়ি

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক কেন্দ্র দুবাইয়ে বিমান চলাচলে অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। Dubai International Airport কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অধিকাংশ উড়োজাহাজ এখনো স্থগিত। যাত্রীদের সরাসরি বিমান সংস্থার নিশ্চয়তা ছাড়া বিমানবন্দরে না আসার অনুরোধ করা হয়েছে।

জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা Emirates–সহ কয়েকটি সংস্থা ৭ মার্চ রাত পর্যন্ত সীমিত সময়সূচি ঘোষণা করেছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে টার্মিনালে প্রবেশও নিয়ন্ত্রিত রাখা হয়েছে।

বিস্তৃত প্রভাব ও আঞ্চলিক উত্তেজনা

যুক্তরাষ্ট্র প্রথম সেনা নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেছে; সাবেক প্রেসিডেন্ট Donald Trump দাবি করেছেন, ইরানের অধিকাংশ সামরিক স্থাপনা “ধ্বংস” করা হয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহতের দাবি করেছে; দুবাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র কনস্যুলেটের নিকটবর্তী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

কাতারে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের আশপাশে সাময়িক নিরাপত্তা সরিয়ে নেওয়া কার্যক্রম চালানো হয়েছে।

খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে আমিরাত সরকার বাজার তদারকি জোরদার করেছে; পর্যাপ্ত মজুত থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

সামরিক ও কূটনৈতিক দুই অঙ্গনেই দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে পরিস্থিতি। উপসাগরীয় আকাশপথ আংশিকভাবে সীমিত থাকায় বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলেও চাপ বাড়ছে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর অর্থনৈতিক অভিঘাত বৈশ্বিক বাজারে প্রতিফলিত হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।

পরিস্থিতির সর্বশেষ আপডেট পর্যবেক্ষণে রয়েছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো। সংঘাতের বিস্তার রোধে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে।