হেগ গ্রুপ বৈঠকে ইরানের পক্ষে কূটনৈতিক অবস্থান

দক্ষিণ আফ্রিকা–ইরান ঘনিষ্ঠতা, ইসরায়েল প্রশ্নে তীব্র অবস্থান ও ফোরামের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা।

বিশ্ব ডেস্ক: বুধবার আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে ‘হেগ গ্রুপ’–এর সাম্প্রতিক বৈঠক ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন, এবং ইসরায়েল–ফিলিস্তিন প্রশ্নে বিভিন্ন দেশের নীতিগত অবস্থান নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।

৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে হেগ গ্রুপ আন্তর্জাতিক আইন বাস্তবায়নে বৈঠক আয়োজন করে এবং বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক আইন রক্ষায় সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানায়। বৈঠকটি “আইন ভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা রক্ষা” ও কূটনৈতিক সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে।

সমালোচক মহলের অভিযোগ, দক্ষিণ আফ্রিকা বৈঠকে ইসরায়েলবিরোধী অবস্থানকে জোরালোভাবে উপস্থাপন করেছে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার সরকারি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, তাদের অবস্থান আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক নীতির ভিত্তিতেই নির্ধারিত।

সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকরা দাবি করেছেন, এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নয়; বরং আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগের প্রশ্ন।
এদিকে ইরান–এর সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার সাম্প্রতিক ঘনিষ্ঠতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দুই দেশ সম্প্রতি যৌথ নৌমহড়া পরিচালনা করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সামরিক সহযোগিতা কেবল প্রতীকী নয়; বরং তা আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য, সমুদ্র নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে নতুন বার্তা বহন করছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, দক্ষিণ গোলার্ধভিত্তিক কিছু দেশের মধ্যে বিকল্প কৌশলগত জোট গঠনের প্রবণতা স্পষ্ট হচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা প্রচলিত পাশ্চাত্য প্রভাববলয়ের বাইরে নতুন সমন্বয় কাঠামো গড়ে তুলতে আগ্রহী।

সমালোচকরা বলছেন, এ ধরনের ঘনিষ্ঠতা মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে বিভাজন আরও বাড়াতে পারে।

অন্যদিকে, লাতিন আমেরিকার দুই দেশ—বলিভিয়া ও হন্ডুরাস, এই ফোরাম থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহারের কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে নীতিগত মতপার্থক্য ও কৌশলগত অগ্রাধিকারের পরিবর্তনই এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, ‘হেগ গ্রুপ’–এর কার্যকারিতা ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশ এখন সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও কৌশলগত সমন্বয়ের ওপর নির্ভর করছে। মধ্যপ্রাচ্য সংকটকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক কূটনীতিতে যে নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে, এই ফোরামের অবস্থান সেই প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে।

পর্যবেক্ষকদের ধারণা, আগামী সপ্তাহগুলোতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আনুষ্ঠানিক বিবৃতি ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও স্পষ্ট করবে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে জোটভিত্তিক পুনর্বিন্যাসের যে ইঙ্গিত মিলছে, হেগ গ্রুপের সাম্প্রতিক বৈঠক সেই বৃহত্তর পরিবর্তনেরই একটি অংশ হতে পারে।

হেগ গ্রুপ বৈঠক কী

আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের গণঅভিযান: ইসরায়েল-ফিলিস্তিন স্বাধিকারের ওপর সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা
হেগ গ্রুপ বৈঠক হচ্ছে একটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ফোরাম বা সমন্বিত বৈঠক, যেখানে বিভিন্ন দেশ মিলিত হয়ে আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার, ও ভূ-রাজনৈতিক সংকট সংক্রান্ত অবস্থান ও সমাধান নিয়ে আলোচনা করে।

এই গ্রুপটি ৩১ জানুয়ারি ২০২৫ সালে গঠিত হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক আইন রক্ষা, যুদ্ধাধিকার লঙ্ঘন, ও গণহত্যা এবং বসতি সম্প্রসারণের নীতিগত ও আইনগত দিকগুলো নিয়ে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ।

প্রথম বৈঠকটি হেগ (দায়ী শহর), নেদারল্যান্ডসে অনুষ্ঠিত হয়।

সূত্র: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রতিবেদন, কূটনৈতিক সূত্র ও নীতিনির্ধারণী বিশ্লেষণ।