জীবন বাঁচানোর গাড়িই অচল: অ্যাম্বুলেন্স সংকটে চরম দুর্ভোগ

মেরামতে উদাসীনতা, দরিদ্র পরিবারের উপর বাড়তি আর্থিক বোঝা।
আব্দুল্লাহিল শাহীন: রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। দুর্ঘটনায় আহত, গুরুতর অসুস্থ ও প্রসবকালীন জটিলতায় থাকা রোগীরা সময়মতো চিকিৎসা নিতে জেলা শহরে যেতে পারছেন না। ফলে জীবনরক্ষাকারী এই সেবা অচল হয়ে পড়ায় জনদুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।
উপজেলার কুর্শা ইউনিয়ন, সয়ার ইউনিয়ন ও হারিয়ারকুটি ইউনিয়ন—এই তিনটি ইউনিয়ন পরিষদের তিনটি অ্যাম্বুলেন্স দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। রক্ষণাবেক্ষণ ও সময়মতো মেরামতের অভাবে গাড়িগুলো মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে ইউনিয়ন পর্যায়ে জরুরি রোগী পরিবহনের কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিকল অ্যাম্বুলেন্সগুলোর মেরামতে দীর্ঘদিনেও দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে কেনা গাড়িগুলো অযত্নে পড়ে থেকে সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে, তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স–এর একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সটি অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। একজন রোগী পরিবহনে গেলে অন্য রোগীকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক সময় রোগীদের প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এ নিতে হয়। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে স্বজনরা বাধ্য হয়ে বেশী ভাড়ায় গাড়ি, অটোরিকশা বা ইজিবাইকে রোগী নিয়ে যাচ্ছেন। এতে সময় ও ব্যয় দুটোই বাড়ছে, পাশাপাশি রোগীর জীবনও ঝুঁকিতে পড়ছে।
ভুক্তভোগী এক স্বজন বলেন, “রাতে হঠাৎ অসুস্থ হলে অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যায় না। কয়েক হাজার টাকা খরচ করে ভাড়া গাড়ি নিতে হয়। দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এটি বহন করা অত্যন্ত কষ্টকর।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. হামদুল্লাহ বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। ইউনিয়ন পরিষদের অ্যাম্বুলেন্সগুলো সচল থাকলে রোগীদের এ দুর্ভোগে পড়তে হতো না।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত বিকল অ্যাম্বুলেন্সগুলোর মেরামত ও ইউনিয়নভিত্তিক জরুরি চিকিৎসা পরিবহন ব্যবস্থা পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, অবহেলা ও সমন্বয়হীনতার কারণে জীবনরক্ষাকারী সেবাই এখন অচল হয়ে পড়েছে।






