শ্রীলঙ্কার উপকূলে সাবমেরিন হামলায় ইরানি ফ্রিগেট ধ্বংস: ১০১ নাবিক নিখোঁজ

ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডেনা ডুবে গেল। শ্রীলঙ্কার উপকূলে সাবমেরিন হামলার অভিযোগ, ১০১ নাবিক নিখোঁজ; ৩০-৩২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

সংবাদ প্রতিবেদন: ইরানের মৌজ-শ্রেণির ফ্রিগেট আইআরআইএস ডেনা শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলের গালে থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার (২৫ মাইল) দূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ডুবে গেছে। জাহাজটিতে ছিলেন ১৮০ জন নাবিক।

শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী যৌথ উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ৩০ থেকে ৩২ জনকে (কিছু সূত্রে ৩৫ জন) জীবিত উদ্ধার করেছে। অধিকাংশই গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় করাপিটিয়া শিক্ষণ হাসপাতালে ভর্তি। একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

রয়টার্সসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, জাহাজটি সাবমেরিন হামলার শিকার হয়েছে। এতে অন্তত ৭৮ জন আহত এবং ১০১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। হামলাকারীর পরিচয় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। তবে কিছু সূত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, এটি মার্কিন নৌবাহিনীর সাবমেরিনের টর্পেডো হামলা।

শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ সংসদে জানিয়েছেন, জাহাজটি ভোরে বিপদসংকেত পাঠায়। উদ্ধারকাজে শ্রীলঙ্কার দুটি নৌজাহাজ ও একটি বিমান নিয়োজিত থাকে।

আইআরআইএস ডেনা ২০২১ সালে কমিশন করা হয়। এটি ইরানের সর্বাধুনিক দেশীয় নির্মিত ফ্রিগেট, যাতে উল্লম্ব উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ও অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। জাহাজটি ভারতের বিশাখাপত্তনমে আয়োজিত আন্তর্জাতিক ফ্লিট রিভিউ (মিলান ২০২৬) অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিল, যেখানে ৭৪টি দেশের যুদ্ধজাহাজ উপস্থিত ছিল। অনুষ্ঠান শেষ হয় ২৫ ফেব্রুয়ারি। এর তিন দিন পর ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু হয়। সেন্টকম জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ১৭টি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে।

ডেনা ভারত থেকে ফেরার পথে এই ঘটনার শিকার হয়। শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান আন্তর্জাতিক সমুদ্র উদ্ধার সনদ অনুযায়ী চলছে। অন্য রাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সংশ্লিষ্টতার কারণে ভিডিও প্রকাশ করা হয়নি।

এ ঘটনা ভারত মহাসাগরকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছে, যা পারস্য উপসাগর থেকে প্রায় ৪,০০০ কিলোমিটার দূরে। শ্রীলঙ্কা নিরপেক্ষ দেশ হিসেবে যুদ্ধে জড়িত নয়, তবে তার নাবিকরা ইরানি নাবিকদের উদ্ধার করছে। এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সমুদ্রপথের স্থিতিশীলতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং আরও তথ্যের জন্য আন্তর্জাতিক সূত্র ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ঘোষণার অপেক্ষা করা হচ্ছে।