ইরানে হামলা জোরদারের প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের

ছবি: সংগৃহিত

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ‘বড় ধাক্কা আসছে, এখনো মূল আঘাত শুরু হয়নি’

বিশ্ব ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের চতুর্থ দিনে ইরানের বিরুদ্ধে আরও ব্যাপক হামলার প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমরা এখনো ইরানে কঠোর হামলা শুরুই করিনি। বড় ধাক্কা আসছে শিগগিরই।” তার এ বক্তব্যের পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে পরিচালিত অভিযানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র, ড্রোন স্থাপনা, নৌ সক্ষমতা ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। প্রথম ২৪ ঘণ্টায় এক হাজারের বেশি টার্গেটে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়। অভিযানটি চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় ধরে চলতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে পেন্টাগন।

অভিযানের প্রাথমিক ধাক্কায় ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ হতাহতের তালিকা প্রকাশ করেনি।

এদিকে ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা জোরদার করেছে। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে মার্কিন দূতাবাস প্রাঙ্গণে দুটি ড্রোন আঘাত হেনেছে বলে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এতে সীমিত অগ্নিকাণ্ড ও সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সতর্কতা জারি করেছে এবং প্রয়োজন হলে দেশ ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, জ্বালানি বাজার এবং বৈশ্বিক কূটনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

সূত্র: সিএনএন (ট্রাম্পের সাক্ষাৎকার), রয়টার্স, আল জাজিরা, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড, সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি।